গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৪০, বেসামরিকদের হতাহতের অভিযোগ

শনিবার সারা দিনব্যাপী গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো একাধিক হামলায় অন্তত ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও ড্রোন হামলা, কামানের গোলাবর্ষণ এবং গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও হতাহতের বিবরণ

এলাকাহামলার ধরননিহতের সংখ্যাবিস্তারিত
গাজা সিটির উত্তরাংশবিমান হামলা৯ জনতিনটি আলাদা স্থানে হামলা
খান ইউনিস (আল-মাওয়াসি)বিমান হামলা১৩ জনএর মধ্যে ৮ জন বাস্তুচ্যুত ছিলেন
নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পড্রোন হামলা২ জনমধ্য গাজা
খান ইউনিস (ড্রোন হামলা)ড্রোন হামলা১ জন
আল-বুরেইজ শরণার্থী ক্যাম্পকামানের গোলা১ জনমধ্য গাজা
বিভিন্ন স্থান (ত্রাণের অপেক্ষায়)গুলি১৪ জন৬টি পৃথক স্থানে হামলা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসব স্থানে কয়েক হাজার মানুষ ত্রাণ সংগ্রহের জন্য জড়ো হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম গাজার জিকিম এলাকায় একটি সামরিক চেকপোস্টের কাছে গুলিতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। ৪২ বছর বয়সী আবু সামির হামুদেহ বলেন, “মানুষজন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের দিকে যেতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই গুলি শুরু হয়।”

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা একটি “তাৎক্ষণিক হুমকি” শনাক্ত করার পর ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছে। তবে হতাহতের বিষয়ে তারা কিছু জানে না বলে এএফপিকে জানিয়েছে।

এছাড়া রাফাহর উত্তরে শুক্রবার রাতের বোমাবর্ষণের ঘটনায় বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল ১২টি মরদেহ উদ্ধার করে, যা পরে খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই উদ্ধার অভিযান জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দফতর (OCHA)-এর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছিল।

ইসরায়েলের দাবি ও সামরিক কার্যক্রম

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা জুড়ে ১০০টিরও বেশি “সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে” বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, একটি “সন্ত্রাসী সেল” তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক বসানোর চেষ্টা করছিল, যা প্রতিহত করে সেই গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে।

প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর থেকেই গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৯,৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

অন্যদিকে, এএফপি’র সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামাসের আক্রমণে ১,২১৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন।

গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত থাকায় এবং স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায়, এএফপি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে পারেনি।