লাহোরের রাস্তায় পোষা সিংহের হামলায় নারী ও শিশু আহত

পাকিস্তানের লাহোরে এক পোষা সিংহ মালিকের বাড়ি থেকে পালিয়ে রাস্তায় বের হয়ে এক নারী ও দুই শিশুর ওপর হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিশাল আকৃতির একটি সিংহ দেয়াল টপকে রাস্তায় নেমে এক নারীকে তাড়া করে এবং তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভিডিওটি বৃহস্পতিবার রাতে ধারণ করা হয়।

পুলিশ জানায়, বাজারের ব্যাগ হাতে ওই নারী যখন হাঁটছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে সিংহটি তাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে প্রাণীটি তার পিঠে লাফিয়ে পড়ে এবং মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর সিংহটি নারীর পাঁচ ও সাত বছর বয়সী দুই শিশুর ওপরও হামলা চালায় এবং তাদের মুখ ও হাতে আঁচড় দেয়। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

আক্রান্ত নারীর স্বামীর অভিযোগ, সিংহটির মালিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও তাদের প্রাণীকে মানুষ আক্রমণ করতে দেখে হাসছিলেন এবং বিষয়টিকে উপভোগ করছিলেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে শুক্রবার আটক করা হয়েছে। লাহোর মহানগর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) কার্যালয় জানিয়েছে, ‘ঘটনার পর অভিযুক্তরা সিংহ নিয়ে পালিয়ে গেলেও ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

পুলিশ ১১ মাস বয়সী ওই পুরুষ সিংহটি উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বন্যপ্রাণী উদ্যানে পাঠিয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাণীটি সুস্থ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই বিলাসিতা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবে বড় বন্য প্রাণী, বিশেষ করে সিংহ ও বাঘ পালনের প্রবণতা রয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লাহোরের আরেকটি ঘটনায় একটি প্রাপ্তবয়স্ক সিংহ খাঁচা থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এক নিরাপত্তারক্ষী সেটিকে গুলি করে হত্যা করেন।

ওই ঘটনার পর প্রাদেশিক সরকার বড় বিড়াল প্রজাতির প্রাণীর বিক্রি, পালন ও মালিকানা নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করে। নতুন নিয়মে এসব প্রাণী রাখার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং আবাসিক এলাকায় তাদের রাখায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একইসঙ্গে প্রজনন খামার পরিচালনায় নিবন্ধন ফি এবং ন্যূনতম ১০ একর জমির শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।