এআই চিপের চাহিদা বৃদ্ধিতে রেকর্ড আয় প্রত্যাশা করছে টিএসএমসি

বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর ফলে চলতি বছরে তারা রেকর্ড মুনাফা প্রত্যাশা করছে। মঙ্গলবার হসিনচু, তাইওয়ান থেকে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

অ্যাপল ও এনভিডিয়া সহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ সরবরাহকারী টিএসএমসির চেয়ারম্যান এবং সিইও সিসি ওয়ে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কিছুটা প্রভাব ফেললেও, এআই খাতে কোম্পানির অবস্থান খুবই শক্তিশালী থাকবে।

শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে দেওয়া বার্ষিক সভায় সিসি ওয়ে বলেন, ‘এ বছর আমাদের আয় ও মুনাফা কোম্পানির ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়বে। এআই চিপের প্রবল চাহিদা মেটাতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

তবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে কারখানা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা থাকার খবর অস্বীকার করেছেন।

চীন থেকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ চাইছে, টিএসএমসি যেন উৎপাদনের অংশ তাইওয়ান ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং জাপানে নতুন কারখানার কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি উন্নত প্রযুক্তির চিপ কারখানা নির্মাণের বিষয়েও টিএসএমসি চিন্তাভাবনা করছে। তবে সিসি ওয়ে এ বিষয়ে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

টিএসএমসি জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাদের বিক্রি হয়েছে ৩৪৯.৬ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (প্রায় ১১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮.১ শতাংশ এবং মার্চ মাসের তুলনায় ২২.২ শতাংশ বেশি।

মার্কিন শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সিসি ওয়ে বলেন, ‘শুল্ক বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়লে এবং চাহিদা কমে গেলে কিছুটা চাপ পড়তে পারে। তবে তারপরও আমাদের ব্যবসা ভালই থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিছুই ভয় পাই না, শুধু ভয় পাই যদি বৈশ্বিক অর্থনীতি ধসে পড়ে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের চাপ থেকে মুক্তির আশায় দেশটিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা করলেও, তাতেও তাইওয়ান থেকে পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ হয়েছে। যদিও সেমিকন্ডাক্টর পণ্যসমূহ আপাতত সে শুল্কের বাইরে রয়েছে।

ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে চিপ খাতকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ বিবেচনায় এনে তদন্ত শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে এই খাতে শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করতে পারে।