নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান হামলায় নিহত কমপক্ষে ২০ বেসামরিক নাগরিক : স্থানীয়দের দাবি

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন জামফারা রাজ্যের তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা, বার্তা সংস্থা এএফপিকে।

স্থানীয়রা জানান, জামফারার মারু জেলার মানি ও ওয়াবি গ্রামে দস্যুরা হামলা চালিয়ে গরু চুরি করে এবং বহু মানুষকে অপহরণ করে। এরপর পার্শ্ববর্তী মারায়া গ্রামের বাসিন্দারা ও স্বেচ্ছাসেবকরা অপহৃতদের উদ্ধারে এগিয়ে যান।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ডাকাতদের উপস্থিতির খবর দেওয়ার পর, ভুলবশত ওই স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।

এ ঘটনার বিষয়ে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য না করলেও, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিমান বাহিনী দাবি করেছে, ‘নির্ভুল অভিযানে’ অন্তত ২০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়া বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, জিহাদি এবং দস্যুদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে এসব হামলায় বহু বেসামরিক লোকও প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগেও জামফারা ও আশপাশের এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত জানুয়ারিতে জুরমি জেলায় স্থানীয় গোয়েন্দাদের সন্ত্রাসী ভেবে চালানো এক বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ডানসাদাউ জেলার মুতুনজি গ্রামে পলায়নপর দস্যুদের লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলায় শতাধিক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কাদুনা রাজ্যের টুডুন বিরি এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মুসলিম জনতাকে ডাকাত ভেবে চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৮৫ জন প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন নারী ও শিশু।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ক্যামেরুন সীমান্তঘেঁষা র‌্যান শহরে বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে এক সামরিক বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১১২ জন।

উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় দস্যুবাহিনী অর্থনৈতিক লুটপাট, অপহরণ এবং সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ছড়িয়ে আসছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী জিহাদি ও দস্যুদের দমনে অভিযান চালালেও এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বারবার ঘটছে।