দীর্ঘ দেড় বছরের প্রস্তুতির পর ইউক্রেন রাশিয়ার চারটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৪০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এসবিইউ (ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা) পরিচালিত ‘স্পাইডারস ওয়েব’ নামে একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়। এতে ১১৭টি ড্রোন ব্যবহৃত হয়।
কিয়েভ থেকে এএফপি-কে দেওয়া তথ্যে এসবিইউ জানিয়েছে, এই হামলার প্রস্তুতি নিতে দেড় বছর সময় লেগেছে। কাঠের ভ্রাম্যমাণ কেবিনের মধ্যে ড্রোন লুকিয়ে বিমানঘাঁটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ে আঘাত হানা হয়।
রাশিয়া এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছে। তারা জানায়, দেশটির পাঁচটি অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইস্তান্বুলের পথে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অভিযানের সাফল্যের জন্য এসবিইউ প্রধান ভাসিল মালিউককে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে— এই অভিযানের মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল রাশিয়ারই এফএসবি (প্রভাবশালী নিরাপত্তা সংস্থা) দপ্তরের কাছ থেকে।
জেলেনস্কি আরও জানান, অভিযানে জড়িতরা আগেভাগেই নিরাপদে রাশিয়া ত্যাগ করেছে। এসবিইউ দাবি করেছে, এই হামলায় রাশিয়ার কৌশলগত বিমান পরিবহনে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এসবিইউ’র তথ্যমতে, সাইবেরিয়ার ইরকুতস্কের বেলায়া, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওলেনিয়া, মধ্য রিয়াজানের ডিয়াজিলেভো এবং মধ্য ইভানভো অঞ্চলের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
ধ্বংস হওয়া বিমানের মধ্যে ছিল পরমাণু সক্ষম টিইউ-৯৫, টিইউ-২২ এম-৩ এবং এ-৫০ বোমারু বিমান।
প্রথম ধাপে এসবিইউ এফপিভি ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে পৌঁছে দেয়। এরপর সেগুলো ভ্রাম্যমাণ কাঠের কেবিনের ছাদে বসানো হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে রিমোটের সাহায্যে ড্রোনগুলোর মাধ্যমে রুশ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।
ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কাবজেভ বেলায়া ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, একটি ট্রাক থেকে এই হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এলাকাটি নিরাপদ এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো হুমকি নেই।
রুশ সংবাদমাধ্যমও এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, মুরমানস্কে হামলা হলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, পাঁচটি অঞ্চলে হামলা হয়েছে। ইভানভো, রিয়াজান ও আমুর অঞ্চলে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তবে ইউক্রেনের এসবিইউ আমুর ঘাঁটির বিষয়ে কিছু জানায়নি। মুরমানস্ক ও ইরকুতস্কে কয়েকটি বিমানে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয় জানায়, হামলাকারীদের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে ৪৭২টি ড্রোন হামলার পাশাপাশি সাতটি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এছাড়া ইউক্রেনের স্থলবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মিসাইল হামলায় ১২ সেনা নিহত হন। এ ঘটনার পর বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মিখাইলো ডিরাপাতাই পদত্যাগ করেন।
