তিন বছর পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন, তবে থাকছেন না পুতিন

প্রায় তিন বছর পর ইউক্রেন ও রাশিয়া আবারও সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসতে চলেছে। বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনায় উপস্থিত থাকছেন না।

ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে রাশিয়া শীর্ষপর্যায়ের প্রতিনিধি না পাঠিয়ে একটি নিম্নস্তরের প্রতিনিধি দল ঘোষণা করেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর অল্প কয়েকবার আলোচনার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। সেই সময়ের পর এই প্রথম দু’দেশ সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। তবে পুতিনের অনুপস্থিতিতে বৈঠকের গুরুত্ব কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘ এ যুদ্ধে ইউক্রেনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দেশটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পর পাল্টা প্রস্তাব হিসেবে পুতিন ১৫ মে ইস্তাম্বুলে আলোচনার প্রস্তাব দেন। জেলেনস্কি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও শর্ত দেন, আলোচনায় পুতিনের উপস্থিতি চাই।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা তার যুদ্ধ, আলোচনাও তার সঙ্গেই হওয়া উচিত।’

ক্রেমলিনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। ২০২২ সালের আলোচনাতেও ছিলেন তিনি। তার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল গালুজিন, উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলেকজান্ডার ফোমিন এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ’র প্রধান ইগর কোস্ত্যুকভ।

আলোচনার আগ মুহূর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার কোন প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তা দেখে ইউক্রেন তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করবে। তিনি বলেন, ‘তুরস্কে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তুত। রাশিয়া থেকে কে আসছে, তা দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে রাশিয়া জানায়, তারা আলোচনায় ‘নাৎসিবাদ মুক্তকরণ’ ও ইউক্রেনের ‘নিরস্ত্রীকরণ’সহ মূল ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলবে। এছাড়া দখলকৃত ভূখণ্ডের স্বীকৃতি চাইবে।

কিয়েভ এই দাবিগুলো আগের মতোই প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন, কূটনৈতিক পথেই নিজেদের দখলকৃত অঞ্চল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, তুরস্কে ন্যাটোর বৈঠকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে সিবিগার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি শুক্রবার ইস্তাম্বুলে আলোচনার সময়ও উপস্থিত থাকবেন।

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্ক যেতে পারেন।