চরম ডানপন্থী এএফডি নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্তের মুখে জার্মানির মের্ৎস

জার্মান কনজারভেটিভ নেতা ফ্রিডরিখ মের্ৎস শিগগিরই একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন—চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ তিনি নেবেন কি না।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি সম্প্রতি এএফডিকে ‘চূড়ান্ত চরমপন্থী’ দল হিসেবে ঘোষণা করেছে। এতে দলটি নিষিদ্ধের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী, ইসলামবিদ্বেষী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বক্তব্যের জন্য এএফডিকে সংবিধানবিরোধী হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে অনেকে মনে করেন, দলটি নিষিদ্ধ করলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের পক্ষে ভোট দেওয়া ২০ শতাংশ ভোটারের অধিকার খর্ব হবে এবং দলটি ‘শিকার’ বা ‘ব্যবস্থা-বিরোধী’ ভাবমূর্তি পেয়ে যেতে পারে।

এরইমধ্যে এএফডির শীর্ষ নেতারা নিষিদ্ধের উদ্যোগকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন এবং আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অপরদিকে, সিডিইউ ও এসপিডি নেতারা বলছেন, সংবিধানবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

জার্মান সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করতে পার্লামেন্টের একটি কক্ষ বা কেন্দ্রীয় সরকারকে ফেডারেল সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করতে হয়। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠিন এবং অতীতে একই ধরনের মামলা বেশিরভাগই টিকেনি।

বিদায়ী চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ এ বিষয়ে ধীরে ও সতর্ক হয়ে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। আর বামপন্থী নেতা সাহরা ভাগেঙ্কনেখ্ত মনে করেন, নিষিদ্ধের পদক্ষেপ ভোটারদের আরও চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, মের্ৎস এই চাপের মুখে কী সিদ্ধান্ত নেন।