অস্ট্রিয়ার মোজার্ট চকলেটের স্বাদে তিক্ততার ছোঁয়া

ভিয়েনার এক অভিজাত কনফেকশনারিতে, দক্ষ শেফরা এখনো অস্ট্রিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোজার্ট চকলেট তৈরি করছেন। মারজিপান, পেস্তা, কাঠ বাদাম এবং হ্যাজেলনাট নুগাটে ভরা এই সুস্বাদু চকলেট বলের মোড়কে থাকছে সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি উলফগ্যাং আমাদেউস মোজার্টের ছবি। তবে এই শিল্পের ঐতিহ্য আজ সংকটে।

পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘লেশচাঞ্জ’ এখনো হাতে তৈরি করছে এই মোজার্টকুগেল। প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার পিস চকলেট অর্ডার অনুযায়ী তারা ১০টি ধাপ পেরিয়ে প্রস্তুত করেন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান এখন ব্যতিক্রম। কারণ, বর্তমানে অধিকাংশ মোজার্ট বল অস্ট্রিয়ার বাইরে তৈরি হচ্ছে।

মার্কিন খাদ্য প্রতিষ্ঠান মন্ডেলেজ, যারা ‘মিরাবেল’ ব্র্যান্ডের মালিক, তারা সম্প্রতি ‘মোজার্টের জন্মস্থান’ সালজবার্গ থেকে কারখানা সরিয়ে পূর্ব ইউরোপে নিয়েছে। এ নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।

লেশচাঞ্জ-এর প্রধান চকোলেট প্রস্তুতকারক উলফগ্যাং লেশচাঞ্জ একে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “মোজার্ট বল একেবারে অস্ট্রিয়ান পণ্য। এটা এখানেই তৈরি হওয়া উচিত।”

মূল ‘অরিজিনাল’ মোজার্টকুগেল উদ্ভাবন করেন সালজবার্গের কনফেকশনার পল ফুয়ের্স্ট ১৮৯০ সালে। ১৯০৫ সালে প্যারিস মেলায় স্বর্ণপদক জিতে জনপ্রিয়তা পায় এই চকলেট। বর্তমানে তার প্রপৌত্র মার্টিন ফুয়ের্স্ট সেই ঐতিহ্য বহন করছেন। বছরে ৩৫ লাখ মোজার্ট বল তারা এখনো হাতে তৈরি করেন।

কিন্তু সময়ের সাথে বাজার দখলের লড়াইয়ে এসেছে অসংখ্য নকল। নিজেদের ‘আসল’ দাবিতে ফুয়ের্স্ট পরিবারকে দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালাতে হয়েছে।

দুঃখজনকভাবে, মোজার্ট চকলেট কখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সুরক্ষিত ভৌগোলিক নির্দেশক’ (PDO) স্বীকৃতি পায়নি, যেটা শ্যাম্পেইন বা পারমিজান চিজের আছে। ফলে জার্মান কোম্পানি রেবারও প্রতিদিন ৫ লাখ মোজার্ট বল উৎপাদন করলেও তাদের ‘অরিজিনাল’ দাবি করতে পারছে না, যদিও ‘আসল’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারে না।

গত মাসে মন্ডেলেজের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নতুন চালু হওয়া ‘অথেন্টিক মিরাবেল মোজার্টকুগেলন’ কোথায় তৈরি হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

উৎপাদন সরানো ও ব্যয় সংকোচনের কারণ হিসেবে কোকোর বাড়তি দাম ও জ্বালানি খরচকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে লেশচাঞ্জের হাতে তৈরি চকলেটের দাম মন্ডেলেজের চেয়ে সাত গুণ বেশি হলেও তারা মান ধরে রাখছেন।

কারখানা বন্ধের পর ৬০ জনেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রেড ইউনিয়ন।

ভিয়েনার আরেক প্রতিষ্ঠান হেইনডলও ‘মোজার্টকুগেল’ অস্ট্রিয়ার বাইরে উৎপাদনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্দ্রেয়াস হেইনডল বলেন, “এটা অস্ট্রিয়ার মতো প্রতীকি পণ্য। এখানে এসেও যদি কেউ আসল মোজার্টকুগেল না পান, সেটা দুঃখজনক।”

তিনি কোকোর তিনগুণ দাম বাড়লেও উৎপাদন অন্যত্র সরানোর কথা ভাবেননি।

লেশচাঞ্জ এ পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গ করে বলেন, “এটা ঠিক যেন মোজার্টের ছবিওলা স্যুভেনির কাপ, যেটা তাড়াহুড়ো করে কিনে দেখা যায় নিচে লেখা ‘মেড ইন চায়না’।”