ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলে ব্রিকস বৈঠক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বাণিজ্য নীতির বিরোধিতা এবং সমন্বিত অবস্থান গঠনের লক্ষ্যে ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে দু’দিনব্যাপী বৈঠকে বসেছেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে, ঠিক সেই সময় এই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ব্রিকস জোটের ১১ সদস্য ছাড়াও এই আলোচনায় মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অংশ নিচ্ছে। জুলাই মাসে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডা চূড়ান্ত করাই এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওরো ভিয়েরা বলেন, “মানবিক সংকট, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বহুপাক্ষিক নীতির অবক্ষয়ের এই সময়টিতে ব্রিকসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ট্রাম্প প্রশাসন গত জানুয়ারিতে চীনসহ বহু দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করে। চীনের ক্ষেত্রে এই হার পৌঁছে যায় ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।

চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক ঝাও চেনসিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির বিরোধিতা করে চীন সঠিক পথেই রয়েছে।

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিকস জোট বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এবং ৩৯ শতাংশ জিডিপির প্রতিনিধিত্ব করে। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়ে আসছে তারা।

বৈঠকে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভিয়েরা বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং চলমান অবরোধ অগ্রহণযোগ্য। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও ব্রিকস সাধারণত শান্তির আহ্বান জানালেও সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করছে না।

এই বৈঠক এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়ে মন্তব্য করেন। জবাবে পুতিন ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে হোয়াইট হাউস জানায়, এটি যথেষ্ট নয়।

এবারের ব্রিকস বৈঠকে মার্কিন ডলারের প্রভাব কমিয়ে জাতীয় মুদ্রায় পারস্পরিক লেনদেন বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। যদিও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, এখনই অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা নেই।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতির তুলনায় ব্রাজিল কিছুটা রেহাই পেয়েছে। ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও চীনের মতো বড় পরিমাণ শুল্ক চাপেনি।

মঙ্গলবার এই বৈঠকে আরও ৯টি অংশীদার দেশ যোগ দেবে। তাদের মধ্যে রয়েছে কিউবা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, নাইজেরিয়া এবং কয়েকটি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র।