মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল অর্থ সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি অভিযোগ করেছে, সরকার শিক্ষার স্বাধীনতা হরণ করতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডসহ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, ক্যাম্পাসে ইহুদি বিদ্বেষ সহ্য করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের জেরে বাজেট, কর সুবিধা ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হোয়াইট হাউস।
হার্ভার্ড বলেছে, এই মামলার লক্ষ্য সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাষ্য, ফেডারেল অর্থ সহায়তা আটকে রেখে তাদের একাডেমিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও ফেডারেল আইনের পরিপন্থী।
মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘ইচ্ছাকৃত ও খামখেয়ালি’ বলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বেআইনি ঘোষণা করতে হবে এবং মামলার খরচ সরকারকে বহন করতে হবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল সহায়তা স্থগিতের নির্দেশ দেন। প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সরাসরি প্রভাব রাখতে চায়।
হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার বলেন, “আমরা শিক্ষার স্বাধীনতা নিয়ে কোনো আপস করব না।”
সরকারি দাবি অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে ইহুদি বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে। হার্ভার্ডও সে সময় ২৩ জন শিক্ষার্থীকে নজরদারিতে রাখে ও ১২ জনকে স্নাতক ডিগ্রি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “হার্ভার্ড এখন আর সম্মানজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। সেখানে কৌতুক, ঘৃণা ও বোকামিই শেখানো হয়।”
এছাড়া, দেশটির নিরাপত্তা বিভাগও হার্ভার্ডকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে—যদি বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘অবৈধ ও সহিংস কার্যক্রম’ সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়া হয়, তবে তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ বাতিল করা হতে পারে।
হার্ভার্ড জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের মোট শিক্ষার্থীর ২৭.২ শতাংশই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।
মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, তারা সব ধরনের বৈষম্য ও ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে সক্রিয়। তবে সরকারের পদক্ষেপ গবেষণা ও শিক্ষায় সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে, যা ইহুদি বিদ্বেষের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
