যুক্তরাষ্ট্র আগামী মাসগুলোতে সিরিয়ায় মোতায়েনকৃত সেনা সংখ্যা কমিয়ে ১ হাজারের নিচে নামিয়ে আনবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করে আসছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে একসময় আইএস দেশটির একটি বড় অংশ এবং প্রতিবেশী ইরাকের অঞ্চল দখল করে নেয়। যদিও পরবর্তীতে জঙ্গি গোষ্ঠীটি বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে, তবু এখনো কিছু অংশে তাদের সক্রিয়তা রয়ে গেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিরিয়ায় সেনা পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “এই পরিকল্পিত এবং শর্তসাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিরিয়ায় মার্কিন সেনার সংখ্যা এক হাজারের নিচে নামিয়ে আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, এই সমন্বয়ের মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় আইএসের অবশিষ্ট অংশের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও তার প্রথম মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সেনা উপস্থিতি বজায় রেখেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, সিরিয়ার পরিস্থিতি ‘যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়’ এবং সেখানে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
বাশার আল-আসাদের সরকারবিরোধী ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের সময় ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সেই সংঘাতে জড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে আসাদের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএস-বিরোধী অভিযান জোরদার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দিকেও মনোযোগ দিয়েছে, যারা ২০২৩ সালের শেষ থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়ে আসছে।
পেন্টাগন জানায়, সিরিয়ায় আগে প্রায় ৯০০ সেনা মোতায়েন ছিল। তবে ২০২4 সালের শুরুতে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়। এখন নতুন ঘোষণার মাধ্যমে আবার তা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরাকও তার ভূখণ্ডে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের উপস্থিতির অবসান চায় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২,৫০০ সেনা অবস্থান করছে।
