দক্ষিণ সুদানে মার্কিন সাহায্য বন্ধের পর, জীবন রক্ষাকারী সেবা না পেয়ে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে বলে বুধবার একটি আন্তর্জাতিক এনজিও সতর্ক করেছে।
এএফপি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দক্ষিণ সুদান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ফলে শান্তি চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে। দেশটিতে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ৪০ হাজার কলেরা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা ইউনিসেফের মতে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব।
ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, দক্ষিণ সুদানের পূর্বাঞ্চলীয় জোংলেই রাজ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুরা সেবা পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে যাচ্ছে, কিন্তু তারা এখনো সাহায্য পাচ্ছে না। ইউএসএআইডির বাজেট কাটছাঁটের ফলে ২৭টি ক্লিনিকের মধ্যে সাতটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাকিগুলো আংশিকভাবে খোলা রয়েছে।
এই সাহায্য কাটছাঁটের কারণে প্রায় ৬০০টি ক্লিনিকের ২০০ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন কলেরায় মারা গেছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকই ১৫ বছরের নিচে।
দক্ষিণ সুদানের সেভ দ্য চিল্ড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস নিয়ামান্ডি এএফপিকে বলেন, ‘এই অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।’ তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা সাহায্যের অভাবে অসুস্থ শিশুরা গাছের নীচে শুয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নৈতিক ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়া উচিত, কারণ দক্ষিণ সুদানে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বেঁচে থাকার জন্য সাহায্য প্রয়োজন।’
