খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই মার্চ ২০২৫, ২:৫৫ পিএম

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি হামাস অবশিষ্ট ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি না দেয়, তবে গাজার কিছু এলাকা দখলে নেওয়া হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবার ইসরাইল নতুন করে আক্রমণ শুরুর পর শুক্রবার কাটজ এই হুমকি দেন।
Table of Contents
ফিলিস্তিনি একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাস যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বন্দী বিনিময়ের বিষয়ে মিশর ও কাতারের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছে। এতে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ২ মার্চ থেকে ইসরাইল অবরোধ করে রেখেছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছে—তিনজন ভোরবেলায় এবং আরও আটজন দিনের বেলায়।
বৃহস্পতিবার নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০৪ জন নিহত হয়েছে, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একক হামলায় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, “আমি সেনাবাহিনীকে গাজার আরও এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছি। হামাস যত বেশি জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তত বেশি অঞ্চল হারাবে।”
তিনি আরও জানান, হামাস যদি জিম্মি মুক্তি না দেয়, তাহলে ইসরাইল গাজার চারপাশে বাফার জোন সম্প্রসারণ করবে, যাতে ইসরাইলি জনগোষ্ঠী ও সেনাদের সুরক্ষা দেওয়া যায় এবং ওই অঞ্চলে স্থায়ী দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে দক্ষিণ গাজার আল-সালাতিন, আল-কারামা ও আল-আওদা এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তর গাজা থেকে পাওয়া এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় গাধার গাড়িতে করে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে।
ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা বৃহস্পতিবার এক হামলায় হামাসের সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা করেছে।
এদিকে, ইসরাইলের নতুন হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার মুখে পড়েছে।
শুক্রবার রাতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে ফেরার আহ্বান জানান এবং নতুন হামলাকে “একটি নাটকীয় বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গাজায় তুরস্কের অর্থায়নে নির্মিত একটি হাসপাতালের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা সেখানে হামাসের সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে “গাজার একমাত্র ক্যান্সার হাসপাতালের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে “জঘন্য অপরাধ” সংঘটনের অভিযোগ এনেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জেরুজালেমে হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জিম্মিদের নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় ২৫১ জন ইসরাইলিকে জিম্মি করা হয়। বর্তমানে ৫৮ জন এখনও হামাসের হাতে বন্দী, যাদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে।
মন্তব্য