ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সোমবার রাতের ব্যাপক হামলার পর মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এ হামলা কেবল শুরু। হামাসের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো সমঝোতা শুধুমাত্র গুলির মাধ্যমেই হবে।”
এএফপি’র রিপোর্ট অনুসারে, হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় হামলা, যার ফলে ৪০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।
নেতানিয়াহু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস আমাদের বাহিনীর শক্তি অনুভব করেছে। আমি আপনাদের এবং তাদের আশ্বাস দিতে চাই, এটি কেবল শুরু।”
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, নতুন কোনো যুদ্ধবিরতির চুক্তি না হওয়ায় অগ্রগতি থমকে গেছে। নেতানিয়াহু বলেন, “এখন থেকে আলোচনা কেবল গুলির মাধ্যমেই হবে, এবং বাকি জিম্মিদের মুক্তির জন্য সামরিক চাপ অপরিহার্য।”
২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, যা যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
এদিকে, হামাস ইসরায়েলের হামলার পর সামরিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে তাদের মিত্রদের আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র পলিসি ফেলো হিউ লোভাট এএফপিকে বলেছেন, “হামাস আর কোনো যুদ্ধে অংশ নিতে চায় না।”
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হামলা চালানোর আগে ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেছে। ইসরায়েলও জানিয়েছে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার বিষয়টি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “বৈরিতা পুনরায় শুরু করার জন্য হামাস সম্পূর্ণরূপে দায়ী।”
বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশ হামলার নিন্দা জানিয়েছে, এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবার তাদের প্রিয়জনদের পরিণতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামাস বারবার তাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করায় হামলা চালানো হয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সহিংসতা পুনরায় শুরু হলে অবশিষ্ট জিম্মিদের ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হবে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এএফপিকে বলেছেন, “হামলার লক্ষ্য ছিল গাজার রক্তে লেখা আত্মসমর্পণ চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া।”
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “হামাসকে বুঝতে হবে যে খেলার নিয়ম পরিবর্তিত হয়েছে। যদি জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া হয়, তাহলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস চালিয়ে যাবে।”
দক্ষিণ গাজায় এএফপির ফুটেজে দেখা গেছে, আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং মৃতদেহগুলো মর্গে পাঠানো হচ্ছে। হামাস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে গাজায় হামাসের সরকারের প্রধান এসাম আল-দালিসসহ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
