রাশিয়া যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, অভিযোগ জেলেনস্কির

মঙ্গলবার ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ করেছে। যুদ্ধবিরতিতে জ্বালানি গ্রিডে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে রাশিয়া সম্মত হওয়ার কিছু সময় পরই মস্কো ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

এএফপি সূত্রে কিয়েভ থেকে এই খবর পাওয়া গেছে।

তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধের বড় পরিসরে নিষ্পত্তি ঘটানোর জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটন ৩০ দিনের পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ৯০ মিনিটের ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিন বলছেন, যেকোনো চুক্তির জন্য আরও কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে।

পুতিন দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার জন্য ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি বন্ধ করতে হবে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন তার সেনাবাহিনীকে ৩০ দিনের জন্য ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপের পর, রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৭৫ জন বন্দী বিনিময়ের ঘোষণা দিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি জ্বালানি অবকাঠামো বিষয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তিনি আরও বিস্তারিত জানার জন্য ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা করতে চান।

জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার হামলা আমাদের জ্বালানি খাত, অবকাঠামো এবং সাধারণ জীবনধারা ধ্বংস করে দিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পুতিন কার্যত পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।”

কিয়েভে, ইউক্রেনীয়রা পুতিনের কাছ থেকে কোনও ছাড় পাওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান। ৩২ বছর বয়সী লেভ শোলোদকো বলেন, “আমি পুতিনকে মোটেও বিশ্বাস করি না, তিনি কেবল শক্তি বোঝেন।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি পুতিনের সাথে একটি বোঝাপড়া গড়ে তুলেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য চেষ্টা করছেন। তবে তার মিত্ররা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ তিনি মস্কোর দিকে বেশ ঝুঁকছেন।

পুতিনের সাথে তার সর্বশেষ ফোনালাপকে “ভালো এবং ফলপ্রসূ” বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। যদিও ক্রেমলিন আরও জোর দিয়ে বলেছে, ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি শর্তে পশ্চিমা সহায়তার সম্পূর্ণ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, পশ্চিমা মিত্ররা, যেমন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং যুক্তরাজ্যের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এছাড়া, ইউক্রেনের সামনের লাইন থেকে সৈন্যরা রাশিয়ার উপর সন্দেহ ব্যক্ত করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওলেকসান্ডার বলেন, “এমন লোকদের আপনি কীভাবে বিশ্বাস করতে পারেন যারা আপনার ওপর আক্রমণ করে এবং শিশুদেরসহ বেসামরিক লোকদের হত্যা করেছে?”