গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শুরু করার জন্য হামাস রোববার সরাসরি এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এদিকে, ইসরায়েল আরো আলোচনার জন্য দোহায় একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনার দ্বিতীয় ধাপের ওপর জোর দিচ্ছে হামাস
হামাসের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে ‘কোনও বিধিনিষেধ বা শর্ত ছাড়াই’ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা যুদ্ধবিরতির স্থায়ী ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপের সরাসরি আলোচনা’ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
হামাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, অবরোধের অবসান, অঞ্চল পুনর্গঠন এবং আর্থিক সহায়তা ইস্যুতে আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অফিস জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়াতে চায় এবং এজন্য দোহায় প্রতিনিধি পাঠাবে।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ১৫ মাসের যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল, যার মধ্যে ২৫ জন জিম্মি এবং ৮টি মৃতদেহের বিনিময়ে এবং প্রায় ১,৮০০ ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির খবর আসে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের পর, ইসরায়েল ফিলিস্তিনে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়ে জনসংখ্যার বড় অংশকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাস নেতাদের জন্য ‘শেষ সতর্কীকরণ’ দিয়ে গাজার পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তবে, হামাস বলেছে যে ট্রাম্পের হুমকি ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী উপেক্ষা করতে উৎসাহিত করবে।
এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন হামাসের সাথে সরাসরি আলোচনা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে প্রথমবার ঘটছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য একটি ট্রাস্ট তহবিল তৈরি করার প্রস্তাবের মধ্যে একটি সদিচ্ছার প্রথম পদক্ষেপ রয়েছে।
ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা তেল আবিবে তাদের নিয়মিত সমাবেশে সরকারকে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছেন।
