বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ

দেশে চলছে তীব্র ডলার সঙ্কট, হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। সর্বশেষ ১৪ মাসে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে ২২ টাকা বা ২৬ শতাংশ। গতবছর জুনে আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৭ টাকা যা এখন ১০৯ টাকায় উঠেছে। আর কার্ব মার্কেটে দাম ছিল ৮৮ টাকা, যা এখন রেকর্ড ১১৪ টাকায় উঠেছে। এখানে দাম বেড়েছে ২৬ টাকা বা ৩০ শতাংশ।

 

বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ

বাড়ছে ডলারের দাম, কমছে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ

এই ক্রমবর্ধমান ডলার সঙ্কটের ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ। শুধুমাত্র এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ কমেছে ২১৩ কোটি ডলার, শতাংশের হিসেবে যা ২২ শতাংশ।এই সময়ে দেশে বিদেশি’ ঋণের স্থিতি ২৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাড়িয়েছে ২২ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে সরকারি ঋণ ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন বেড়ে ৭৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একদিকে ডলারের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদেশিরা সুদহার বাড়াচ্ছে। বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুদহার এখন ৮ থেকে ৯ শতাংশ। এক বছর আগেও তা ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ দেশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুদহার বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ করে সাম্প্রতিক যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সুদ মিলছে। পাশাপাশি আগে দেওয়া ঋণের মেয়াদ বাড়াতে অনীহা থাকায়, যে হারে পুরোনো ঋণ সমন্বয় হচ্ছে, সে হারে নতুন ঋণ আসছে কম।

 

জুনে রেকর্ড পরিমাণ ২২০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে

 

এদিকে ডলার সঙ্কট নিয়ে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং পণ্য আমদানিতে ব্যয় বাড়বে। কমবে টাকার মান, বাড়বে দ্রব্যমূল্য। ঘাটতি দেখা দেবে বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে। এই সঙ্কট পুরো অর্থনীতিকে আঘাত করবে।তারা এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য রেমিট্যান্স, রপ্তানিসহ সার্বিকভাবে ডলারের অ্যায় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

Leave a Comment