মেট্রোরেল চলবে দিনরাত , জানাল কর্তৃপক্ষ. ধীরে ধীরে মেট্রোযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন নগরবাসী। শুরুতে কেবল পর্যটনস্পটে পরিণত হওয়া স্টেশন এখন ব্যবহার হচ্ছে প্রয়োজনে।
এবার নগরবাসীর দাবি, দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়, পূর্ণ সেবায় চালু হোক মেট্রোরেল। আর মতিঝিলের পথে এগিয়ে যেতেও তর সইছে না তাদের।
এমন পরিস্থিতিতে মাস র্যাপিড ট্রানজিট লাইন (এমআরটি) কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী জুলাইতেই রেল চলবে দিনরাত। আর এ ডিসেম্বরেই বাণিজ্যিক যাত্রার গন্তব্য হবে মতিঝিলে।
মেট্রোরেল চলবে দিনরাত , জানাল কর্তৃপক্ষ
আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রথম তিন মাসে খরচের পাল্লা ভারি হলেও উত্তরা থেকে আগারগাঁও পথে দর্শনার্থীদের ভিড় কমে বেড়েছে সাধারণ যাত্রী চলাচল।
মেট্রোরেলে যাতায়াতকারীরা বলছেন, কোনো যানজটের ব্যাপার নেই। ট্রেনে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসা যাচ্ছে। তাই কোনো কাজে যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলে আসাটাই ভালো; সঠিক সময়ে পৌঁছানো যাবে। বাসে করে আসতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে; সেটি আর লাগবে না।

চলতি মাসের শুরু থেকেই থামছে ৯টি স্টেশনে। এখন আর শখের বশে ঘুরতে আসা মানুষই নয়, প্ল্যাটফর্মে দেখা মিলবে অফিসগামী, স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাত্রীদের। ঘণ্টার যাত্রা এখন নেমে এসেছে মিনিটে। তাই এবার ফিরতি যাত্রায়ও এ পথে মেট্রোতেই চড়তে চায় তারা।
যাত্রীরা বলছেন, সারা দিন ট্রেন চললে খুবই সুবিধা হয়। রাতেও ট্রেনের প্রয়োজন হয়। এতে করে কাজ শেষ করে সময় মতো বাসায় পৌঁছানো যাবে। তাই মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রেন চালু করা খুবই দরকার।
শুধু কি তাই! দুই প্রান্তেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ সার্ভিস থাকায় ওপাশে টঙ্গি ও গাজীপুর, আর এদিকে মতিঝিল ও ধানমন্ডির যাত্রীরাও অন্তত কিছুটা পথ স্বস্তিতে যেতে বেছে নিচ্ছে এ স্বপ্ন বাহন। তাইতো আর তর সইছে না; আগারগাঁও থেকে মতিঝিল যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে নগরবাসী।
তারা বলছেন, মতিঝিল পর্যন্ত চালু হলে খুবই উপকার হয়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মতিঝিল পর্যন্ত চালু হয়ে গেলে ভালো হবে।
এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, এখনই লাভক্ষতির হিসাব মেলাতে চাইছেন না তারা। মানুষের প্রয়োজন অভ্যস্ততা হলে ধীরে ধীরে চলবে সকাল থেকে রাত। আর জুলাইতে মতিঝিলের ট্রেন যাত্রা পরীক্ষায় পাস করলেই নভেম্বরে বাণিজ্যিক যাত্রায় চলছে প্রস্তুতি।
অন্যদিকে মতিঝিল থেকে কমলাপুরে বর্ধিতাংশের কাজও এগিয়ে চলছে পুরোদমে, যা ২০২৪ সালেই শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যোগাযোগের ইতিহাসে একটি মাইলফলক স্থাপন করে বাংলাদেশে প্রথম এলিভেটেড মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন।
তিনি শহরের উত্তরা দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের এমআরটি লাইন-৬-এর ১১.৭৩ কিলোমিটার অংশের ফলক উন্মোচন করেন।
ডিসেম্বরে সীমিত পরিসরে এ স্বপ্নযাত্রা শুরুর পর থেকেই বাড়ছে মেট্রোরেলের পরিধি। দুটি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এরই মধ্যে প্রথম পর্বের ৯টি স্টেশনই চালু হয়েছে।
