রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বের সব দেশ কয়লা রফতানি বন্ধ করলেও কূটনৈতিক তৎপরতায় সফল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার। প্রতি বছর আসবে ৪০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা।এই চলতি মাসেই দুই চালানে আসবে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারনে সারা বিশ্বের অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। এমন সময়ে আমদানি করা কয়লা দিয়ে উৎপাদনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
সংকটময় মুহূর্তে সরকারের সফল কূটনৈতিক তৎপরতায় ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করে এস আলম গ্রুপ। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকেও।
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘তারা (এস আলম গ্রুপ) কয়লার অর্থায়ন জোগাড় করেছে। পাশাপাশি চীনা ব্যাংকগুলোও এগিয়ে এসেছে। আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বড় একটি অর্জন।’

যুদ্ধের বাজারে কয়লা কূটনীতিতে সফল বাংলাদেশ
বঙ্গোপসাগর তীরে নির্মিত বড় জেটি দিয়ে মার্চের প্রথমে ২০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আসবে। পরে দ্বিতীয় চালানে আসবে ২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা। প্রতিবছর আসবে ৪০ লাখ মেট্রিক টন করে। একই সঙ্গে দামও পড়বে কম।

এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু বলেন, ‘মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। মার্চের শেষের দিকে আমাদের কয়লা আসবে। আমরা কয়লার প্রথম চালান ইন্দোনেশিয়া থেকে আনছি।’
কয়লা রাখার জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে দুটি বড় আকারের শেড রয়েছে। পরিবেশদূষণ রোধে ২৭৫ মিটার উঁচু চুল্লির পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রকল্প পরিচালক দীপংকর মজুমদার বলেন, ‘আমরা পরিবেশগত সব রীতিনীতি মেনেই কাজ করছি। এখানে পরিবেশ অধিদফতরের লোকজনও এসেছিলেন। তারা সব দেখে গিয়েছেন।’উল্লেখ্য, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ২৬ হাজার কোটি টাকা।
আরও দেখুনঃ