বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এ আশাব্যন্জক উন্নতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এ আশাব্যন্জক উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ইউএস ডলারের সরবরাহ বাড়তে থাকায় রিজার্ভ এর এই ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারীর তৃতীয় সপ্তাহে রিজার্ভের পরিমান বেড়ে ৩৩ বিলিয়ন বা ৩৩০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌছেছে। জানুয়ারী শেষে ৩২.২২ বিলিয়ন বা ৩২২০ কোটি ডলার। এ সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আমদানী ব্যয় অব্যাহত ছিলো।
এর তিন কারন চিন্হিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথমত, জানুয়ারী মাসে রেকর্ড পরিমান রেমিট্যান্স প্রবাহ আসা এবং ফেব্রুয়ারিতে বিগত তিন সপ্তাহ ধরে এ প্রবাহ অব্যাহত থাকা; দ্বীতিয়ত, রপ্তানী আয় বৃদ্ধি ও তৃতীয়ত, আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিল থেকে ৪৭০ কোটি ডলার অনুমোদিত ঝণের প্রথম কিস্তি ৪৭৬ মিলিয়ন বা ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার চলতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হওয়া।
এছাড়া আমদানীতে সংকোচনশীল নীতি বা সতর্ক অগ্রগতি পরিচালনা ও নিবিড় তদারকি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এ আশাব্যন্জক উন্নতি
সার্বিক পরিস্হিতি বিবেচনায় ইউএস ডলার সংকট বা আয়ের তুলনায় ব্যয়ে অসংগতি কেটে যাচ্ছে। এছাড়া আমদানীর প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মূদ্রা সরবরাহও বিগত কয়েক মাসের তুলনায় চলতি মাসে বেশ গতিশীল হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছ থেকে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে) ২০ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকার বেশি। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স আসছে ৬ কোটি ৩১ লাখ ডলারের বেশি।

আগের মাস ডিসেম্বর (২০২২) এ রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ডলার।
রেমিট্যান্স প্রবাহের একই ধারা চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেও। প্রথম ১০ দিনে ৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দৈনিক গড়ে এর পরিমান ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার বা প্রায় ৬৮৮ কোটি টাকার বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারিতে ২৮ দিনে রেমিট্যান্স ১৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
বিগত বছরের যে কোনও সময়ের চেয়ে দেশের রফতানি আয়ও বেড়েছে।
রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর হিসেবে অর্থবছর ২০২১-২২ এ দেশের মোট রফতানি আয় হয়েছিল ৫২.০৮২ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ২০০ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই -জানুয়ারী) সময়ে রপ্তানী থেকে আয় হয়েছে ৩২.৪৪৭ বিলিয়ন ডলার বা ৩২৪৪ কোটি ৭ লাখ ডলার।
বাংলাদেশের রফতানি আয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইএমএফ বলছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় হবে ৭৫.৮ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫শ ৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

দেশের ব্যাংকগুলোর ডলার বা বৈদেশিক মূদ্রা সংকটও কেটে যাচ্ছে আস্তে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রায় তিন মাস পর সামগ্রিকভাবে ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের সীমা নেট ওপেন পজিশন লিমিট (এনওপি) ইতিবাচক ধারায় এসেছে।
মঙ্গলবার এনওপি দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এনওপি সর্বোচ্চ ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয় গত ৩০ নভেম্বর।
গত সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি ডলার। কিছুদিন আগেও যা ২০০ কোটি ডলারের সামান্য বেশি ছিল।
এনওপি হলো একটি ব্যাংক তার মোট বৈদেশিক মূদ্রা আয় থেকে যে পরিমান নিজস্ব সন্চিতি রাখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এ সীমা এখন ১৫ শতাংশ।
কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার সরবরাহে উন্নতি হওয়ায় এলসি খোলা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত সোমবার ব্যাংকগুলোতে মোট ২ হাজার ২০০ এলসি খোলা হয়েছে। এখন দৈনিক গড়ে এলসি খোলা হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার। দুই মাস আগেও যা এক হাজারের ঘরে নেমে এসেছিল।
আরও দেখুনঃ
