আহসান উল্লাহ (১৮৭৬-১৯৩৯) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সমাজসেবক এবং প্রবীন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
আহসান উল্লাহ | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
আহসান-উল্লাহ মোল্লা ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার জাত আমরুল নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাজী আমান উল্লাহ মোল্লা এবং মাতার নাম ফিরমন নেসা। তিনি বিবি রহিমা খাতুনকে বিবাহ করেন। আহসান-উল্লাহ ও রহিমা খাতুন দম্পতির কনিষ্ঠ পুত্র মোল্লা আবুল কালাম আজাদ। মোল্লা আবুল কালাম আজাদ টলিউড অভিনেতা, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবক ছিলেন।
কর্মজীব
আহসান-উল্লাহ মোল্লা উত্তরাধিকারসূত্রে জমিদারির দায়িত্ব পান। তিনি তার মাতামহের কাছ থেকে জমিদারি পান। তিনি সফলভাবে জমিদারি পরিচালনা করেন।
তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি পাট ও লবণ ব্যবসা করতেন। অবিভক্ত বাংলা ও আসামের প্রায় ২২টি স্থানে তার ব্যবসায়ী কার্যক্রম ছিল। তার পাটের ব্যবসা যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ডান্ডি শহর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল৷
আহসান-উল্লাহ মোল্লা তৎকালীন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ-কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি মহাত্মা গান্ধী, শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তাদের সান্নিধ্যে রাজনীতি জীবন অতিবাহিত করেন।

সামাজিক কর্মকাণ্ড
আহসান-উল্লাহ মোল্লা এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ এবং পুকুর খনন করেন। দরিদ্র এবং অসহায় মানুষদের আর্থিক সাহায্য সহযোগিতাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তিনি একজন দানশীল ও জনদরদী ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
তার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে আত্রাই উপজেলার অনেক প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়। তার নামানুসারে আহসান-উল্লাহ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি ব্রিটিশ শাসনকালে আত্রাই ঘাট নামে এককটি রেলওয়ে স্টেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে রেলওয়ে স্টেশনটির নাম পরিবর্তন করে তার নামানুসারে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন করা হয়েছে। আত্রাইয়ের ডাকঘরও তার নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে৷
মৃত্যু
আহসান-উল্লাহ মোল্লা ১৯৩৯ সালে ইহলোকের মায়া কাটিয়ে পরলোক গমন করেন।
