আব্দুল খালেক মন্ডল (জন্ম: ১ অগাস্ট ১৯৪৪) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি সাতক্ষীরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
Table of Contents
আব্দুল খালেক মন্ডল | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

প্রাথমিক জীবন
আব্দুল খালেক মন্ডল ১ অগাস্ট ১৯৪৪ সালে সাতক্ষীরার বৈকারী ইউনিয়নের খলিলনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত চান মণ্ডল ও মাতার নাম মৃত দিলজান বিবি। তিনি ইসলাম ধর্মের ধর্মগ্রন্থ কোরআনের হাফেজ। ১৯৬৫ সালে মাদ্রাসা থেকে তিনি কামিল পাস করে ১৯৬৯ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইসলামিক স্টাডিজে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন
আব্দুল খালেক সাতক্ষীরার আগরদাড়ী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন
মন্ডল জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলার আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বৈকারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ২০০১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে সাতক্ষীরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মৃত্যুদণ্ড
মন্ডলের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযগে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ট্রাইব্যুনালে ছয়টির অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা। প্রসিকিউশন বলছে, একাত্তরে তখনকার সাতক্ষীরা মহাকুমার রাজাকার বাহিনীর প্রধান সংগঠক ছিলেন আব্দুল খালেক। তিনি সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ওই অঞ্চলের নিরস্ত্র বেসমারিক জনগণের ওপর নৃশংসতা চালান। ২০১৮ ৫ মার্চ সালে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৪ মার্চ ২০২২ সালে খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ ছয়টি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ অস্বীকার করে মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে দাবী করা হয় কল্পকাহিনী তৈরি করে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায়ে সাজানো মামলায় তাঁকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার ব্যবস্থা করেছে।
আরও দেখুনঃ