বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগররা

বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগররা, শারদীয় দুুর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ঢাক। আর তাই ঢাক তৈরি ও মেরামত করতে বরিশালে ব্যস্তসময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগর ও ঢাকিরা।

নগরীর বাকলার মোড় সংলগ্ন বাজার রোড ঢাক তৈরি করা দোকানগুলোতে ঘুরে দেখাগেছে, শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ঢাক তৈরি কারিগররা ঢাক থেকে শুরু করে সকল প্রকার শব্দ যন্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ।আর মাত্র কয়েকদিন পরেই হিন্দু ধর্মাবোলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে ঢাক বাজানো বাদ্যকার ও বিভিন্ন মিউজিক পার্টি থেকে অর্ডার নেয়া ঢাক সঠিক সময়ে সরবরাহ করার জন্য ঢাক তৈরির কারিগর ও শ্রমিকদের এখন দিনরাত এককার হয়ে গেছে।

বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগররা

 

বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগররা

 

এ বিষয়ে নগরীর বাজার রোড ‘তবলা ভূবন’-এর প্রো. শ্রী শম্ভু দাস ও ‘তাল তরঙ্গ’-এর প্রো. শ্রী মন্টু দাস জানান, যুগ যুগ ধরে ঢাক বাদ্য তৈরি ও ঢাক বাজিয়ে শতাধিক শ্রমিক বা কারিগর তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বর্তমান আধুনিকতার যুগও প্রাচীনকালের ঢাকের প্রথাকে আজো বিলুপ্তি ঘটাতে পারেনি। বিশেষ করে দুর্গা পুজা আসলেই ঢাকের চাহিদা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই ঢাক তৈরির কারিগর ও শ্রমিকেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।আর ঢাকের বাদ্য (শব্দ) ছাড়া দূর্গা পুজার অনুষ্ঠানসহ হিন্দু ধর্মাবোলম্বীদের কোন অনুষ্ঠানই তেমন জমে না।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

শম্ভু দাস ও মন্টু দাস জানান, বংশ পরম্পরায় বিগত প্রায় ৫০ বছর যাবৎ তারা এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের পূর্ব পুরুষ ঢাকসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজ করে আসছেন। বর্তমান সময়ে একটি মাঝারী ধরনের ঢাক তৈরি করতে তাদের খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আর সেটি বিক্রি করছেন ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়। দুর্গা পুজা উপলক্ষে ইতোমধ্যেই তাদের কাছে নতুন ঢাক তৈরি ও মেরামতের বেশ কিছু অর্ডার এসেছে। শম্ভু দাস আরো জানান, চার সদস্যের সংসারে ঢাকসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামত করে তার পরিবার নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দেই বসবাস করছেন। তবে বিগত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ঢাক তৈরির অর্ডার অনেক ভালো।

 

বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক তৈরি কারিগররা

 

এ প্রসঙ্গে বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটি (বিআরইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মিথুস সাহা বলেন, শারদীয় দুূর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে ঢাক। সন্ধ্যা গড়ানোর সাথে সাথে ঢাকের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে দুর্গা মন্ডপগুলো। ঢাকের শব্দ শুনলেই বোঝা যায় মন্দিরের সম্মুখে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।

সাংবাদিক মিথুস সাহা আরো বলেন, পূজায় ঢাক-ঢোলের বাদ্য অপরিহার্য হলেও বর্তমানে সাউন্ড সিস্টেমের দাপটে ঢাকের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এছাড়া বেড়েছে কাঠ ও চামড়াসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম। ফলে এখন তেমন লাভের মুখ দেখছেন না বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগররা।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, পূজা ছাড়াও বাংলা ও বাঙলির সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র। তবে পূজা-পার্বনে এখনও ঢাক-ঢোলের কদর রয়েছে। পূজার আরতিতে ঢাক-ঢোলের কোনো বিকল্প নেই। তাই বছরের এ সময়টাতে ব্যস্ত সময় পার করেন ঢোল-খোলের কারিগররা। এসব কারিগর বা শিল্পীর যদি আসে তাদেরকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করা হবে।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment