,

ফেনীতে মাকে হত্যার অভিযোগ, আটক মেয়ে

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ৮০ বছর বয়সী মা সেতারা বেগমকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মেয়ে রিনা আক্তার রানুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। মাকে হত্যার পর অভিযুক্ত রানু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম ওই বাড়ির হোসেন মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হঠাৎ পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন রানু। এরপর ধারালো বটি দিয়ে মা সেতারা বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগমের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

মাকে হত্যার পরও রানুর আচরণ স্বাভাবিক হয়নি বলে স্থানীয়দের বর্ণনায় উঠে এসেছে। হাতে বটি নিয়ে তিনি বাড়ির এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ছোটাছুটি করতে থাকেন। এ সময় দরজাগুলো ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করতে বেগ পেতে হয়। পরে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন পুলিশ সদস্যরা। সেখান থেকে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আহত আরও তিনজনের বিষয়টিও সামনে আসে।

আগেও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন ধরে রানুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তিনি নিজের স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাঁকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রানুকে চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তাঁর বড় বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তাঁকে সেখানে নেওয়ার কথা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, রানুর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তবে এ দাবির বিষয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার সঙ্গে তাঁর মানসিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশের বক্তব্য

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত রিনা আক্তার রানুকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের ভেতরে এমন সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তের আচরণ এবং আহত ব্যক্তিদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে রানুর মানসিক সমস্যার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও যথাযথ চিকিৎসা ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এ ধরনের কোনো সমস্যার দাবি দিয়ে অপরাধের দায় বা ঘটনার প্রকৃত কারণ আগাম নির্ধারণ করা যায় না।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।