টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আগেই অবসর নিয়েছেন বিরাট কোহলি। ভারতের হয়ে এখন তাঁর মনোযোগ ওয়ানডে ক্রিকেটে। ফলে প্রতিটি সিরিজের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নেওয়া এবং ব্যাটিংয়ের ধার ধরে রাখা তাঁর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর সামনে রেখে সেই লক্ষ্যেই অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভারতের অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আগে নিজের ব্যাটিং ঝালিয়ে নিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চাইছেন না তিনি। আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে দু-এক দিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
কোহলির এই প্রস্তুতি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। খেলোয়াড় হিসেবে এটিই তাঁর শেষ নিউজিল্যান্ড সফর হতে পারে—এমন আলোচনার কারণে আসন্ন সিরিজে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস খেলা এই ব্যাটার এখন ওয়ানডে ক্রিকেটেই ভারতের হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
শুধু আসন্ন সিরিজ নয়, কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে ক্রিকেটমহলে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে যেমন কৌতূহল রয়েছে, তেমনি একই প্রশ্ন উঠছে ভারতের আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার রোহিত শর্মাকে নিয়েও। দুই তারকার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বিশ্বকাপের আগে ভারতের দল গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি নিজের মতামত জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সহকারী কোচ জেমস প্যামেন্ট। প্রায় এক মাস আগেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে আট বছর ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন প্যামেন্ট। সেই সময় রোহিত শর্মার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্যামেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয়, সব বড় খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের শেষ যখন ঘনিয়ে আসে, তখন তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়। কখন সরে দাঁড়াতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারা অর্জন করেছেন।’
দুই ক্রিকেটারের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ তাদের ক্যারিয়ারের একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য, যেখানে তারা খেলতে চান, তাহলে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর বিষয়টি হয়ে দাঁড়ায় পারফরম্যান্স ও দলের প্রতি অবদানের।’
প্যামেন্টের বক্তব্যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি দলে তাঁদের অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে পারফরম্যান্সের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখতে মাঠে অবদান রাখার বিকল্প নেই। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, বর্তমান ফর্ম এবং দলের প্রয়োজন—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়।
কোহলির পেশাদারত্বের প্রশংসা করতেও ভোলেননি নিউজিল্যান্ডের সহকারী কোচ। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি কখনো বিরাট কোহলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করিনি। তবে নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে থাকাকালে কিংবা মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে কাজ করার সময় তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার চোখে, তিনি পেশাদারত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ। এমন একজনকে আমি সব সময় নিজের দলে চাইব। কারণ তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ পেশাদার খেলোয়াড়।’
কোহলির প্রস্তুতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্যামেন্টের এই মন্তব্য তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাদার পরিচিতির বিষয়টিই সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অনুশীলন, ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওয়ানডে ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার পর কোহলির জন্য এসব দিক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ভারত বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিরিজে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যস্ততার মধ্যেই দুই দলের ওয়ানডে লড়াইয়ের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
আসন্ন সিরিজে কোহলির ব্যাটিং কেমন হয়, সেদিকে যেমন নজর থাকবে, তেমনি আগামী বছরের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলবে। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভারতের ওয়ানডে দলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, নিউজিল্যান্ড সিরিজে সেটিও দেখার বিষয়।









