,

মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন: অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও যৌন নিপীড়নের অত্যন্ত জঘন্য এক অভিযোগ পাওয়া গেছে। পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আবাসিক শাখায় অধ্যয়নরত এক কিশোর শিক্ষার্থীর ওপর চলা এই নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ছেলে এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর এলাকার এহ্ইয়াউল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার পাওয়ার পরপরই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় এবং ওই দিন বিকেল চারটার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসা ভবন থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা গণমাধ্যমকে জানান, ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন প্রকৃত কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার সুমহান উদ্দেশ্যেই তিনি তাকে ওই মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। তার সন্তান ইতিমধ্যে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল এবং পবিত্র কোরআনের চার পারা হিফজ সম্পন্নও করেছিল। কিন্তু শিক্ষকরূপী নরপিশাচরা তার সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবুঝ শিশুটির ওপর ধারাবাহিক যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে শিশুটি কান্নাকাটি করে তার পরিবারকে সব খুলে বলে। এই অমানবিক ও পৈশাচিক ঘটনার সুস্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত প্রত্যেকটি ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান এই অসহায় জননী।
এদিকে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব সংবাদমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা থানায় মামলা করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি আমলে নেয়। তাৎক্ষণিক অভিযানে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।