দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম সংক্রমণে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৯ জনে। তাঁদের মধ্যে নিশ্চিত হাম সংক্রমণে মারা গেছেন ১০৪ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮৫ জনের।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং জটিলতা দেখা দিলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৭ জনে।
একই সময়ে নতুন করে আরও ৯৫০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯০ জনে। তবে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা এক নয়। উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমিত কণার সংস্পর্শে এলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে যেসব শিশু হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি বা পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণ করেনি, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
অনেক ক্ষেত্রে হাম কয়েক দিনের মধ্যে সেরে গেলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, তীব্র পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব জটিলতার আশঙ্কা আরও বেশি। এ কারণে হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের কাছ থেকে, বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের কাছ থেকে, যথাসম্ভব আলাদা রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। সন্দেহভাজন রোগীর চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকার শিশুদের টিকাদানের অবস্থা পর্যালোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
হাম প্রতিরোধে টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া হলে সংক্রমণ ও গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৮৯ জনের মৃত্যু এবং ২৩ হাজার ৫৭ জনের শরীরে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার। এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরলেও বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ, বয়সভিত্তিক আক্রান্তের হার এবং টিকাদানের আওতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া রোগটির বিস্তারের পূর্ণ চিত্র নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।









