গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কালিয়াকৈর থানার সফিপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়তলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত হারবাল সেকশনের স্টোরে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কারখানার স্টোরে আগুন দেখতে পান কর্মীরা। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।
আগুনের পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও চারটি ইউনিটকে কাজে যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে দুটি এবং গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
হারবাল সেকশনের স্টোরে আগুন
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির হারবাল সেকশনের স্টোরে। সেখানে কী ধরনের পণ্য, কাঁচামাল বা অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আগুনে কী পরিমাণ মালামাল পুড়েছে কিংবা ভবনের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
কারখানার মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগুন লাগলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে স্টোরে সংরক্ষিত উপকরণের ধরন, ভবনের অভ্যন্তরীণ বিন্যাস এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা আগুন মোকাবিলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় এসব ব্যবস্থার অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে অপেক্ষা
কারখানাটিতে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, যন্ত্রপাতির সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে কি না, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যাচাইয়ের দরকার হবে। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের পরিমাণ, আর্থিক ক্ষতির হিসাব এবং ভবনের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও স্পষ্ট নয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর সাধারণত আগুনের উৎপত্তিস্থল, সম্ভাব্য কারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্য থেকে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগুনের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।









