,

হামে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,২১০

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২১০ জন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগেই হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৮০ জন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৭ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, বরিশালে ১০৮ জন, খুলনায় ১০৭ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন এবং রংপুর বিভাগে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন ভর্তি রোগীদের বড় অংশই ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন। অর্থাৎ, এ সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

একই সময়ে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২২ হাজার ৯৭২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ও নিশ্চিত সংক্রমণের হিসাব আলাদা হওয়ায় এ দুটি পরিসংখ্যানকে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে।

মৃত্যুর হিসাব বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৮২ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৮৬ জন।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে জ্বরের সঙ্গে হামের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমাতে অসুস্থ ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে যথাসম্ভব আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা হাম প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেশের হাম পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।