নিহত তারেক রহমান ওই গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক আগে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পরও তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে মাদকের টাকা চেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালান তারেক। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে তার বাবা অলিউর রহমান তার হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনে অবস্থিত একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তারেককে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত অলিউর রহমান বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সেবন ও এর জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহত তারেকের মাথার পেছনে এবং ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিবারের সদস্যদের ওপর মাদকাসক্ত ব্যক্তির নির্যাতনকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যার অভিযোগের পেছনের প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।









