দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেট কারটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শহিদুল ইসলামের বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তাঁর ছেলে সাদমান গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন প্রাং জানিয়েছেন, গাড়িচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। অন্য কয়েকজন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা প্রাইভেট কারটি তাঁদের সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশায় থাকা শিক্ষার্থীসহ আশপাশে অবস্থান করা কয়েকজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের পায়ে কেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অন্য কয়েকজনও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে আহতদের সবার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম রহমান জানান, বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, প্রাইভেট কারটি রিকশায় জোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতে রিকশায় থাকা শিক্ষার্থীরা ছিটকে পড়ে যান এবং কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িতে থাকা দুজনকে মারধর করেন এবং প্রাইভেট কারটি ভাঙচুর করেন। তবে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ ইমতিয়াজ বলেন, বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছয়জন শিক্ষার্থী এ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের সবাই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অভিযুক্ত চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন জানান, এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রক্টর আরও বলেন, গাড়ি চালানোর সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার পর তিনি প্রক্টর অফিসে অবস্থান করছিলেন। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দর্শনার্থীর চলাচল থাকে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচলের সময় গতি নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের চলাচল বেশি এমন স্থানে অসতর্ক বা বেপরোয়া গাড়ি চালানো গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এ ঘটনায় চালকের লাইসেন্স না থাকার তথ্য সামনে আসায় যানবাহন চালানোর বৈধতা ও ক্যাম্পাসের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, আহত শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা এবং এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।









