রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ভোরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলার শাহাদত মেম্বার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন সোমবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রমজান আলী (৩৪), ট্রাকচালক আরমান হোসেন ইউনুস (৩০) এবং তাঁর সহকারী আরিফ হোসেন (৩২)। রমজান আলী যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকার আমিন উদ্দিনের ছেলে। আরমান হোসেন ইউনুস প্রয়াত কওসার আলীর ছেলে এবং আরিফ হোসেন মো. মালেক মোড়লের ছেলে।
পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন জানান, ঢাকা থেকে যশোরে ইয়াবার একটি বড় চালান নেওয়া হচ্ছে—গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এমন তথ্য আসে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে।
একপর্যায়ে ঝুটবোঝাই একটি ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাকের চালকের আসনের পেছনে থাকা একটি বক্স থেকে ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়। ১৫০টি জিপার ব্যাগে রাখা ছিল মোট ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট। পরে ট্রাকচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি এবং দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মাদকের চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, চালানটির সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং যশোরে কাদের কাছে এগুলো পৌঁছানোর কথা ছিল, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো মাদক পরিবহন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইয়াবা একটি অবৈধ মাদকদ্রব্য, যার মধ্যে সাধারণত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইন থাকে। এর অপব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মাদকের অবৈধ সরবরাহ ও পরিবহন প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে কোনো চালানের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নির্ধারণে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক, পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাকিবুর রহমান এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের উৎস, পরিবহনের উদ্দেশ্য এবং চালানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আদালতের মাধ্যমে।









