,

ফতুল্লায় রাতের আগুনে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় ঝুট ব্যবসায়ীরা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬টি ঝুটের গুদামে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বিলাসনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গুদামগুলোতে মজুত করা ঝুটের কাপড়সহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিলাসনগর এলাকার একটি ঝুটের গুদামে প্রথমে আগুন লাগে। পরে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন আশপাশের গুদামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি অবস্থিত গুদামগুলোতে মজুত করা বিভিন্ন ধরনের কাপড় ও অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

খবর পেয়ে শিবু মার্কেট, নারায়ণগঞ্জ ও হাজীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ২৬টি গুদামের মালামাল পুড়ে যায়। আগুন যাতে আশপাশের অন্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা চেষ্টা চালান।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে।

পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গুদামের মালিক ইমরান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাতে হঠাৎ একটি গুদামে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে তা দ্রুত অন্য গুদামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় গুদামগুলোর সব মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইমরান হোসেনের হিসাব অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে গুদামগুলোর মালামাল পুড়ে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি তাঁর প্রাথমিক অনুমান। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ এখনো জানানো হয়নি।

ঝুটের গুদামগুলোতে সাধারণত তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া কাপড়ের টুকরা ও অন্যান্য অবশিষ্ট উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়। এসব উপকরণ পুনর্ব্যবহার ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য কেনাবেচা করা হয়। ফলে একসঙ্গে একাধিক গুদামে আগুন লাগলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের পুঁজি ও মজুত পণ্যের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিলাসনগরের এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রকৃত লোকসান নির্ধারণে মালামালের পরিমাণ ও মূল্য যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ধারণাটি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গুদামগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের অপেক্ষা করতে হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।