আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ছুটির সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পূজার আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন আগামী ১৭ অক্টোবর, শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হয়ে ওই দিন স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। অন্যদিকে, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ব্যাংকের সাধারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসডিএডি) মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত সার্কুলারে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর—মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার—দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার সব তফসিলি ব্যাংক স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী খোলা রাখতে হবে।
এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকের নিয়মিত শাখাভিত্তিক কার্যক্রম টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে।
পূজার আগে ব্যাংকিং কাজ সারার সুযোগ
ছুটির সূচিতে এ পরিবর্তনের ফলে গ্রাহকেরা পূজার ছুটি শুরুর আগে ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত একটি কর্মদিবস পাচ্ছেন। যাঁদের চেক জমা দেওয়া, অর্থ উত্তোলন, নগদ অর্থ জমা, ব্যবসায়িক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো শাখাভিত্তিক সেবা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা ১৭ অক্টোবর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।
সাধারণত দীর্ঘ ছুটির আগে ব্যাংকে গ্রাহকদের চাপ বাড়তে পারে। ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজনের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ, সরবরাহকারীদের বিল মেটানো, পাওনা আদায় এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক লেনদেনের মতো কাজও এ সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছুটির আগে এসব কার্যক্রম শেষ করতে না পারলে পরবর্তী কর্মদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এ কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় লেনদেনের পরিকল্পনা আগেভাগে করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের সরাসরি ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হয়ে কাজ করতে হয়, তাঁদের ১৭ অক্টোবরের কর্মদিবসটি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট ব্যাংক বা শাখায় কোনো বিশেষ ব্যবস্থা থাকলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
বন্দর এলাকায় সীমিত পরিসরে চলবে ব্যাংকিং কার্যক্রম
সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোকে এ বিষয়ে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিন এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এসব এলাকায় আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জারি করা ডিওএস সার্কুলারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
তবে ছুটির দিনগুলোতে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, তা স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করতে পারবে।
আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য এ নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য আমদানি ও রপ্তানির বিভিন্ন ধাপে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ, প্রয়োজনীয় নথি প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা নিতে হয়। দীর্ঘ ছুটিতে এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা থাকায় বন্দরকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইনে নির্দেশনা জারি
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় একদিকে দুর্গাপূজার ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে, অন্যদিকে ছুটির আগে একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে এবং ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
তাই পূজার ছুটির আগে জরুরি ব্যাংকিং কাজ শেষ করতে চাইলে গ্রাহকদের হাতে থাকা অতিরিক্ত কর্মদিবসটি কাজে লাগানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদেরও দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি মাথায় রেখে লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।









