,

শ্রীপুরে পুকুরপাড়ের মাচা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে বাঁশের মাচা থেকে সবুজ মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে উজিলাব গ্রামের কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে বিশ্রামের জন্য তৈরি বাঁশের মাচার ওপর এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি সবুজ মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।

সবুজ মিয়া উজিলাব গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে বাসায় নৈশভোজ শেষে তিনি বাইরে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। পরদিন সকালে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান।

নিহতের স্বজনেরা জানান, সবুজের মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার অভ্যাস ছিল। এ ছাড়া এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা ছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ওই যুবকদের কেউ কেউ পরিকল্পিতভাবে সবুজকে হত্যা করে মরদেহটি পুকুরপাড়ের মাচায় রেখে যেতে পারে।

তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি। এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দায়ী করার আগে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য বিরোধ এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করা জরুরি।

সবুজের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাড়ির কাছেই পুকুরপাড়ের মাচা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি রাতে কোথায় গিয়েছিলেন, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে ওই স্থানে তাঁর মৃত্যু হলো—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পুকুরপাড়ে বিশ্রামের জন্য তৈরি বাঁশের মাচা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন, মৃত্যুর ধরন এবং অন্যান্য শারীরিক আলামত পরীক্ষা করে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকেরা সহায়তা করেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং মৃত্যুর আগে নিহত ব্যক্তির চলাফেরার তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ মিয়ার মৃত্যুকে নিশ্চিতভাবে হত্যাকাণ্ড বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। তদন্ত শেষে কী তথ্য পাওয়া যায় এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় কি না, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের স্বজনেরা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।