গ্রেপ্তার আরাফাত হোসেনের বয়স ৩১ বছর। তিনি হরিণাডাঙ্গা গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে। এলাকায় তিনি ‘কালা মানিক’ নামে পরিচিত।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রাসেল আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরাফাতের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি শপিং ব্যাগে লুকিয়ে রাখা কাঠের হাতলযুক্ত একটি পাকিস্তানি রিভলবার পাওয়া যায়। এর সঙ্গে আটটি গুলিও উদ্ধার করা হয়।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা রিভলবারটি সচল ছিল। তবে অস্ত্রটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কত দিন ধরে এটি তাঁর কাছে ছিল কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
অভিযানের পর আরাফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিদর্শক রাসেল আলী। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
অস্ত্রের উৎস নিয়ে তদন্তের প্রশ্ন
বসতঘরের ভেতরে শপিং ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি পাওয়ার ঘটনায় অস্ত্রটির উৎস এবং এর মালিকানা নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রিভলবারটি বৈধভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, এর কোনো লাইসেন্স রয়েছে কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। উদ্ধার করা অস্ত্রটি কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ দখল, সংরক্ষণ ও ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে অস্ত্র উদ্ধারের পর সেটির উৎস, মালিকানা ও ব্যবহারের ইতিহাস যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরাফাত হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া বা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া নিজেই অপরাধ প্রমাণের সমতুল্য নয়।









