ম্যাচের শুরুতে দুই দলই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই চালিয়ে যায়। ঘরের মাঠে লিভারপুলও সিটিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করে। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিভারপুলের রায়ান গ্র্যাভেনবার্চ। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
এই সুযোগ কাজে লাগাতে দেরি করেনি ম্যানচেস্টার সিটি। গ্র্যাভেনবার্চ মাঠ ছাড়ার মাত্র তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৫ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। তাঁর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় সিটি।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে জেরেমি ডোকু ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৮ মিনিটে রায়ান শেরকি তৃতীয় গোলটি করে সিটির বড় জয় নিশ্চিত করেন। লিভারপুলের জন্য একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।
এই জয়ের ফলে লিগে টানা ছয় ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে সিটির পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৮। পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা দলটি দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্সেনালের চেয়ে তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন ধারাবাহিকতা সিটির শিরোপার লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হলে এই ছন্দ ধরে রাখাই হবে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা এখনো পিছু ছাড়ছে না ম্যানচেস্টার সিটির। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে যে প্রক্রিয়া চলছে, তার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সিটি। সেই আপিলের ফল ক্লাবটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আপিলে ব্যর্থ হলে পয়েন্ট কর্তনসহ কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে ক্লাবটি। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার কিংবা অতীতে জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব শাস্তি নিশ্চিত নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্তের ওপর।
সব মিলিয়ে, লিভারপুলের বিপক্ষে বড় জয় ম্যানচেস্টার সিটির মাঠের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। একদিকে টানা ছয় জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে আইনি অনিশ্চয়তা—দুই ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগোতে হচ্ছে ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাবটিকে।









