স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সরাসরি লাল কার্ড দেখা। গোল করার পর উদযাপনের মুহূর্তেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ভিএআরের সহায়তায় তাঁর গোল বাতিল করেন রেফারি, পাশাপাশি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টানার ঘটনায় তাঁকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর একজন কম নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে রিয়াল।
শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে রিয়ালের আক্রমণে খুব একটা ধার দেখা যায়নি। কিলিয়ান এমবাপ্পে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোল করতে পারেননি। তাঁর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ভিয়ারিয়ালের গোলরক্ষক পিটার গুলাচি একাধিকবার দুর্দান্ত সেভ করে স্বাগতিকদের হতাশ করেন। ফলে বিরতির আগে গোলশূন্য সমতা বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ায় রিয়াল। এরই ধারাবাহিকতায় ফেদেরিকো ভালভার্দের কাছ থেকে বল পেয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে নিচু শটে গোল করেন ইয়ান দিয়োমান্দে। আইভরিকোস্টের এই তরুণের গোলটি ছিল রিয়ালের হয়ে প্রথম। তাঁর এই সাফল্য দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচে স্বস্তিও এনে দেয়।
গোল পাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় স্বাগতিকরা। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও বল জালে পাঠান। কিন্তু তাঁর গোল উদযাপনের পরই ম্যাচের পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় রিপ্লে পর্যালোচনা করেন রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা। ফুটেজে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টানার ঘটনা দেখতে পান তিনি। এরপর ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল করার পাশাপাশি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল মাদ্রিদ।
একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ার পর রক্ষণ সামলানোই রিয়ালের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে সমতা ফেরাতে আক্রমণের গতি বাড়ায় ভিয়ারিয়াল। প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে রিয়ালের রক্ষণভাগকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। এ সময় গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভিয়ারিয়ালের কার্লোস রোমেরোর একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পেও। কিন্তু ভিয়ারিয়ালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি ফরাসি তারকা। ফলে দিয়োমান্দের করা একমাত্র গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। চাপের মুখেও লিড ধরে রেখে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল।
এই জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে তাদের ব্যবধান ছয় পয়েন্ট। শিরোপার লড়াইয়ে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলেও জয় ধরে রাখা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে লা লিগায় নিজেদের দাপট অব্যাহত রেখেছে বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। টানা সাফল্যের ফলে শীর্ষস্থান আরও শক্ত হয়েছে তাদের। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি।
অন্যদিকে আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদ। বার্সেলোনার চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা। ফলে শীর্ষস্থান ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকতার বিচারে এগিয়ে রয়েছে বার্সেলোনা।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রিয়ালের জয় তাই একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। একজন খেলোয়াড় কম নিয়েও জয় ধরে রাখার মাধ্যমে দলটি লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভিনিসিয়ুসের মাঠ ছাড়ার ঘটনা ম্যাচের ফলের বাইরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামনে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত বাড়বে, ততই নিয়মিত জয় ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।









