নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে আফসানা হাউজিং নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সজীব ব্যাপারীর দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. নাসিরের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর, রোববার বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, একটি খালি ছোট ট্রাক কার্যালয়ের সামনে এসে থামে। এরপর প্রায় ৩০ জন যুবক কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘটনার সময় অফিসটি ফাঁকা ছিল।
ফুটেজে দেখা যায়, একদল যুবক রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষের দরজা ভাঙচুর করছেন। পরে তাঁরা অফিসে থাকা সোফাসেট, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র বের করে বাইরে রাখা পণ্যবাহী গাড়িতে তুলছেন। মালামাল নিয়ে পরে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. নাসির জানান, কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে থাকা এসি ও সেগুলোর বাইরের অংশ খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোফা, টেবিল, টেলিভিশন, গিজার ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল খোয়া গেছে। তাঁর দাবি, লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
নাসিরের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক সজীব ব্যাপারীও চাঁদা দাবির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সজীব ব্যাপারী জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলা ও লুটপাটের কারণে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরদিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন সজীব ব্যাপারী। মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ, লুট হওয়া মালামালের মূল্য এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।









