,

প্রকাশ্য দিবালোকে বিকাশ এজেন্টকে গুলি, লুট ৩ কোটি টাকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের এক পরিবেশকের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে গাড়িটিতে মোট চার কোটি টাকা ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিমেল। আহত হয়েছেন গাড়িচালক লাল মিয়া ও এরিয়া ম্যানেজার ফরহাদও।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত চলন্ত গাড়িটির পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় তারা গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলে এবং একপর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

আহত হিমেলকে প্রথমে শ্রীপুর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই আহত ব্যক্তির চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের শ্রীপুর শাখা মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বিকাশের কার্যক্রম পরিচালনা করে। শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং পোশাকশ্রমিকদের বেতন পরিশোধের চাপ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নগদ টাকার প্রয়োজন বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী নরসিংদী সদরের পরিবেশক হযরত আলী মুন্সীর কাছ থেকে বিকাশের ব্যালেন্সের বিপরীতে নগদ টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের শ্রীপুর শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নগদ টাকা পরিবহনের জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়িটিতে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় টাকা রাখা ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাড়িটি কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সেটির পথ আটকে দেয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। এরপর তারা পিস্তল বের করে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিমেলকে গুলি করে। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা টাকার তিনটি বস্তা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।

মোস্তাফিজুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে মোট চার কোটি টাকা ছিল। তবে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। বাকি অর্থের অবস্থান এবং প্রকৃতপক্ষে কত টাকা লুট হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নগদ অর্থ পরিবহনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্ট ও পরিবেশকদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লেনদেন করতে হয়। ব্যাংক বন্ধের দিন কিংবা বেতন পরিশোধের মতো ব্যস্ত সময়ে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লে অর্থ সংগ্রহ ও পরিবহনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এ ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল এবং আহত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং লুট হওয়া অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হামলাকারীদের পরিচয়, তাদের পালিয়ে যাওয়ার পথ কিংবা লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ঘটনার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং লুট হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা। পাশাপাশি নগদ অর্থ পরিবহনের সময় এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।