২৭ বছর বয়সী ল্যাংলির এই কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল তুলসার ১৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাংক অব ওকলাহোমা সেন্টারে, যা বিওকে সেন্টার নামে পরিচিত। অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনসার্ট বাতিলের ঘোষণা দেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। এতে দর্শকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
ল্যাংলি তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, ভক্ত, অনুষ্ঠানস্থলের কর্মী এবং তাঁর দলের সদস্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর হুমকির কারণে কনসার্ট বাতিলের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, অনুষ্ঠানস্থলের ব্যবস্থাপনা এবং নিজের নিরাপত্তা দলের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন।
বিওকে সেন্টারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ ও শিল্পীর দলের বক্তব্যে কনসার্ট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন অবস্থান উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, পাওয়া যায়নি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ
তুলসা পুলিশের ক্যাপ্টেন রিচার্ড মিউলেনবার্গ ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, পুলিশ বিভাগ কনসার্ট বাতিলের পরামর্শ দেয়নি। বরং নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রাথমিক তল্লাশিতে বোমা শনাক্তকরণে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হয়। ওই তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে তখন কোনো বাধা ছিল না।
কিন্তু এরপর এক ব্যক্তি ফোন করে অনুষ্ঠানে বড় ধরনের ক্ষতি করার আশঙ্কার কথা জানান। ফোনে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার হুমকির কথাও বলা হয়েছিল বলে জানান মিউলেনবার্গ। নতুন করে এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা তল্লাশি চালায়।
দ্বিতীয় দফার তল্লাশির পরও পুলিশ কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ পায়নি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল যে শিল্পী ও দলের, তাঁদের জানানো হয়েছিল যে তদন্তে নির্ভরযোগ্য কোনো হুমকি শনাক্ত করা যায়নি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিরাপদ।
পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে কনসার্ট বাতিলের ঘোষণার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, শিল্পী ও আয়োজকদের সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। সম্ভাব্য হামলার খবর পাওয়ার পর আয়োজকেরা অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তা বাতিল করেন। তবে হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় কিংবা তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে এলা ল্যাংলি
এলা ল্যাংলি বর্তমানে মার্কিন কান্ট্রি সংগীতের উদীয়মান তারকাদের একজন। তাঁর জনপ্রিয় গান ‘চুজিন’ টেক্সাস’ সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। গত মাসে গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় টানা ২৩ সপ্তাহ শীর্ষস্থান ধরে রেখে নতুন রেকর্ড গড়ে। এর মাধ্যমে গানটি মারিয়া ক্যারির দীর্ঘদিনের ২২ সপ্তাহ শীর্ষে থাকার রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়।
গানটির সাফল্যের ফলে ল্যাংলির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তাঁর কনসার্টে দর্শকদের অংশগ্রহণ, ভ্রমণ এবং টিকিটসহ অন্যান্য প্রস্তুতির সঙ্গে আর্থিক ব্যয়ও জড়িয়ে থাকে। এ কারণে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত ভক্তদের জন্য হতাশাজনক হওয়ার পাশাপাশি আয়োজকদের জন্যও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
কনসার্ট বাতিলের জন্য ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ল্যাংলি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দর্শকেরা কতটা সময়, অর্থ ও পরিকল্পনা ব্যয় করেন, তা তিনি বোঝেন। তিনি জানান, কনসার্টটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না এবং ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। তবে কারও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার চেয়ে তাঁদের সুরক্ষাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
এ ঘটনায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আয়োজক ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশিতে বিশ্বাসযোগ্য কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি এবং অনুষ্ঠানস্থল নিরাপদ ছিল। অন্যদিকে, শিল্পী ও আয়োজকেরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। হুমকির উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনাটির পেছনের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।









