,

গ্রিন কার্ডে বাধা, চাপে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত শ্রম সনদ কর্মসূচি থেকে ভারতের কয়েকটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে সাময়িকভাবে বাদ দিয়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে স্থায়ী শ্রম সনদের আবেদন করতে পারবে না। আগে জমা দেওয়া যেসব আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন, সেগুলোর কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগের ওপর।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে ভারতের কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো ও এইচসিএল। পাশাপাশি ফ্রান্সভিত্তিক ক্যাপজেমিনি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিও এর প্রভাবের মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে কঠোর অবস্থান

শ্রমমন্ত্রী সন্ডারলিংয়ের অভিযোগ, বিশ্বের কয়েকটি বড় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে, যা মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও এগোবে না।

সন্ডারলিং দাবি করেন, ২০০৯ সাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য প্রায় ৩০ লাখ আবেদন করেছে। তারা এইচ-১বি ভিসার আওতায় দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া স্থায়ী শ্রম সনদের অনুমোদন পেয়েছে এক লাখের বেশি আবেদন।

তাঁর অভিযোগ, এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার কারণে মার্কিন কর্মীদের কয়েক লাখ চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সরকারি অভিযোগ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।

স্থায়ী শ্রম সনদ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীর জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে চাইলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট শ্রম সনদপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত যাচাই করা হয়, সংশ্লিষ্ট পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও প্রচলিত মজুরির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কি না।

তবে শ্রম সনদ স্থগিত হওয়া এবং সরাসরি গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়া এক বিষয় নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন আবেদন ও প্রক্রিয়াধীন আবেদন বাধাগ্রস্ত হবে। এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আবেদন, কর্মীর অভিবাসন অবস্থা এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

মাইক্রোসফটকে ঘিরে ভ্যান্সের অভিযোগ

এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে মাইক্রোসফটের কঠোর সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করেছে।

ভ্যান্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাইক্রোসফট ছয় হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করে। একই বছরে প্রতিষ্ঠানটি ছয় হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন পায়। পাশাপাশি স্থায়ী চাকরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রম সনদ পেতে তিন হাজার ৬৮২টি আবেদন করে।

ভ্যান্স দাবি করেন, এসব আবেদনের মধ্যে প্রায় এক হাজারটি এমন পদে নিয়োগের জন্য করা হয়েছিল, যেসব পদ থেকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে স্থানীয় কর্মীদের চাকরি কমিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলে কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ উন্মুক্ত রাখতে হয় এবং প্রযোজ্য শ্রমবাজারসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান ছোট শহরের সংবাদপত্রে চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে দাবি করে যে সংশ্লিষ্ট পদে কোনো মার্কিন নাগরিক আবেদন করেননি। পরে তারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি চায়।

তাঁর মতে, এভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এইচ-১বি ভিসায় আসা কর্মীদের বিষয়ে বিতর্কিত ভাষা ব্যবহার করে ভ্যান্স বলেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের জন্য তৈরি কর্মসূচিকে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না। এ কর্মসূচি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি ‘ভিসা তৈরির কারখানা’ বলেও আখ্যা দেন।

ভ্যান্সের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ যেন স্থানীয় কর্মীদের বেতন কমানো বা তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা দুর্বল করার উপায় হয়ে না ওঠে। তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত যাচাই প্রয়োজন।

এইচ-১বি ভিসা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

এইচ-১বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীরা বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন এমন পদে কাজ করার সুযোগ পান। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন পেশায় এই ভিসার ব্যবহার রয়েছে।

ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই ভিসা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে কাজ করেন। ফলে ভিসা ও শ্রম সনদসংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন এলে কর্মীদের নিয়োগ, প্রকল্প পরিচালনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতেও দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত দক্ষতার ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে। আবার সমালোচকদের বক্তব্য, ভিসা কর্মসূচির যথাযথ তদারকি না থাকলে কিছু নিয়োগকর্তা তুলনামূলক কম মজুরিতে কর্মী নিয়োগের সুযোগ নিতে পারে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই মার্কিন অভিবাসন ও শ্রমনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ভ্যান্স জে-১ ভিসায় গবেষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি এই ভিসা ব্যবহার করে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। জে-১ ভিসা মূলত বিনিময়ভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য অনুমোদিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। তবে এই ভিসার ব্যবহার নিয়ে ভ্যান্সের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি আরও কঠোর

মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান রক্ষার যুক্তি তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসননীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম কঠোর করা এবং ভিসা ব্যবস্থার তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে তুলনামূলক কম খরচে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করে। এতে স্থানীয় কর্মীরা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রভাব সব প্রতিষ্ঠান, পেশা ও শ্রমবাজারে একই রকম নয়। প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাই, নতুন নিয়োগ এবং দক্ষতার চাহিদার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মভিসার জন্য এক লাখ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ এবং কোন ধরনের আবেদন বা কর্মীর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ফি-সংক্রান্ত পরিবর্তনকে সব ধরনের এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

এইচ-১বি ভিসার আওতায় অনুমোদন পাওয়া বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় পেশাজীবীদের অংশ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে পরিবর্তন হলে ভারতের প্রযুক্তি শিল্পে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ন্যাসকমের বক্তব্য: স্থানীয় নিয়োগও বাড়িয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন ন্যাসকম বলেছে, দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মী নিয়োগ বাড়িয়েছে বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে ন্যাসকম জানায়, অভিবাসন এবং দক্ষ কর্মীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে কাজের সুযোগ দেওয়াকে একই বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংগঠনটির মতে, সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষ কর্মীদের সাময়িকভাবে কাজ করার সুযোগ এবং অভিবাসননীতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই দুই ক্ষেত্রকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ন্যাসকমের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি ভিসা দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যতেও নির্দিষ্ট খাতে দক্ষ কর্মীর সংকট মোকাবিলায় এ কর্মসূচির প্রয়োজন হতে পারে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, ভারতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফরচুন-৫০০ তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতীয় কোম্পানিগুলো সহায়তা করে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরিতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে ন্যাসকমের দাবি।

ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান মার্কিন গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তিসেবা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, পরামর্শ এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাদের কর্মী নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

বিশেষ করে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি কর্মীদের জন্য শ্রম সনদপ্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আবেদন স্থগিতের প্রভাব ব্যক্তিগত পর্যায়েও পড়তে পারে। যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সব বিদেশি কর্মীর ভিসা বা বিদ্যমান কর্মসংস্থানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় নিয়োগ বাড়ানো, কর্মীদের অন্য দেশে পাঠানো বা বিভিন্ন প্রকল্পের জনবল পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষার যুক্তিতে শ্রম সনদ ও ভিসা ব্যবস্থায় কঠোরতা আনছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রযুক্তি শিল্পের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের চলাচল প্রযুক্তি খাতের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া এবং শ্রম সনদপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।