ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকারের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে গোয়া পুলিশ। নিজের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যু হয় এই অভিনেতার। মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে পুলিশ।
পানাজি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ নম্বর ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, কীভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, গোয়ার ডোনা পাউলার এলাকার ওশান পার্কে নিজের বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় নানা পাটেকারকে। পরে তাঁকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর নীতিন নায়েক।
গভীর রাতে বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন অভিনেতা
নানা পাটেকারের মৃত্যুর আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন অভিনেতা।
গভীর রাত হওয়ায় বন্ধুটি তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি। পরে সেটি নজরে আসার পর তিনি নানা পাটেকারকে ফোন করেন। এরপর ভোর ৪টার দিকে অভিনেতার বাড়িতে পৌঁছান তিনি।
সেখানে গিয়ে বন্ধুটি অভিনেতার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে পান। চিকিৎসক শেখর সালকারের বর্ণনা অনুযায়ী, তখন নানা পাটেকারের শরীরে ঘাম দেখা দিয়েছিল এবং অসুস্থতার অন্যান্য উপসর্গও প্রকাশ পাচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু এর মধ্যেই অভিনেতা ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাতে থাকেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে বাড়ির এক পরিচারককে পাঠানো হয়। একই সময়ে হাসপাতাল থেকেও একটি জরুরি চিকিৎসক দল তাঁর বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেয়।
সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি প্রাণ
চিকিৎসক শেখর সালকার জানান, জরুরি চিকিৎসক দল বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই অচেতন হয়ে পড়েছিলেন নানা পাটেকার। তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা হিসেবে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়া হয়। তবে তাতে সাড়া মেলেনি।
ভোর ৪টা ২০ মিনিটের দিকে অভিনেতাকে গোয়ার বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ ও সিপিআর দিয়ে তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা চালিয়েও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাত ২টা ৩০ মিনিটে বন্ধুকে অসুস্থতার কথা জানানো থেকে শুরু করে ভোরে হাসপাতালে নেওয়া এবং সেখানে চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা—সব মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। তবে অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত
অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়েরের মাধ্যমে পুলিশ মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের সুযোগ পায়। এ ধরনের মামলা নথিভুক্ত হওয়া মানেই যে মৃত্যুর পেছনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে, তা নয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করাই এর উদ্দেশ্য।
নানা পাটেকারের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি, বন্ধুকে পাঠানো বার্তা, বাসভবনে তাঁকে উদ্ধারের পরিস্থিতি এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসার বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। গোয়া পুলিশ এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেয়নি। পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর নীতিন নায়েকের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীদের বক্তব্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে।









