ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাবেক স্ত্রী সুমা আক্তারকে (২৪) হত্যার পর তার মুঠোফোন থেকেই স্বজনদের ফোন করে হত্যার কথা জানানোর অভিযোগ উঠেছে সাইফুল হাওলাদারের (৩০) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া সাইফুলকে প্রায় দুই সপ্তাহ পর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া লাইটারঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি থানার গোপালপুর গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে। নিহত সুমা আক্তার ছিলেন তার সাবেক স্ত্রী। এ ঘটনায় সুমার মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাইফুলকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার এসব তথ্য জানান।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে সুমা আক্তারের সঙ্গে সাইফুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় সুমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে সাইফুলের বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে গত ৯ জুলাই তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিচ্ছেদের পর সুমা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নাজিরেরবাগ এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবসান হলেও সাইফুলের সঙ্গে তার বিরোধ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এসআরবি।
এর মধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমার মুঠোফোন থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করেন সাইফুল। ফোনে তিনি জানান, সুমাকে হত্যা করে নাজিরেরবাগের ভাড়া বাসায় মরদেহ রেখে তিনি চলে গেছেন।
এমন খবর পেয়ে সুমার স্বজনরা দ্রুত ওই বাসায় যান। সেখানে ঘরের ভেতর সুমার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর থেকেই সাইফুল আত্মগোপনে চলে যান। হত্যার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি-১০। তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার চরপাড়া লাইটারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর সাইফুলকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খতিয়ে দেখছে।









