ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আবারও পালিয়ে গেলেন শরিফুল ইসলাম নামে এক আসামি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবন থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশের নজর এড়িয়ে তিনি পালিয়ে যান। এর আগে গত বছরের জুনেও আদালত থেকে পালানোর সময় এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে মঙ্গলবার সকালে শরিফুল ইসলামকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে আনা হয়। পরে দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তার হাজিরা সম্পন্ন হয়। শুনানি শেষে তাকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নিচতলার প্রধান হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এ সময়ই ঘটে পালানোর ঘটনা।
আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের নজর এড়িয়ে শরিফুল কৌশলে সরে যান। প্রত্যক্ষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি নিরাপত্তাবেষ্টনী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। বিষয়টি বুঝতে পারার পর আদালত এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
শরিফুলের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত বছরের জুন মাসেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই সময় তাকে পাহারায় থাকা এক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অভিযান চালিয়ে ঢাকার অদূরে একটি আত্মগোপনের স্থান থেকে শরিফুলকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
একই আসামির আবারও আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিম্ন আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব আসামির আগেও পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের আদালতে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালত থেকে হাজতখানায় আসামি স্থানান্তরের সময় সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ধাপ অনুসরণ করার কথা। আসামির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সমন্বয় এবং আদালত ভবনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নজরদারির আওতায় রাখা—এসব বিষয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো একটি ধাপে ঘাটতি থাকলে আসামি পালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শরিফুলের ক্ষেত্রে আগের পালানোর ঘটনা কর্তৃপক্ষের জানা থাকার পরও মঙ্গলবার কীভাবে তিনি আবার নিরাপত্তা এড়িয়ে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আদালত চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা এবং পালানোর সময় তার গতিপথ খতিয়ে দেখা হতে পারে।
পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে ধরতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কোনো সদস্যের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা নিরাপত্তা প্রটোকল না মানার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে শরিফুল ঠিক কীভাবে আদালত ভবন থেকে বেরিয়ে গেলেন, পালানোর পর কোন পথে গেছেন এবং তাকে ধরতে পুলিশের অভিযানে এখন পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে—এসব বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পুনরায় গ্রেপ্তার এবং আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালানোর পুরো ঘটনা তদন্তের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।









