গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে আলোচিত আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এত দিন ঘটনাটি গাজীপুর এলাকায় ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পিচ্চি রাজা আসলে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের সম্পৃক্ততারও প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
পলায়নে সহায়তার অভিযোগে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুলিশের দুই সদস্য ও পিচ্চি রাজার বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি স্কট পার্টির প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়।
সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নেন। এরপর তিনি আসামি পিচ্চি রাজা এবং হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে সামনের দিকে নিয়ে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের আসনের পাশে বসেন। তবে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর আর ভ্যানে ওঠেননি। ওই সময় আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে উঠে পিচ্চি রাজা সেখান থেকে চলে যান। অর্থাৎ, কাশিমপুরে নেওয়ার পথে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজারেই তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে যান।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার পর এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনাস্থলে যান। এরপর তিনি প্রিজন ভ্যানে উঠে স্কট পার্টির অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘটনার একটি ভিন্ন বর্ণনা তৈরি করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এভাবে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়ার প্রকৃত স্থান ও পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণের পর পুলিশ পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাজা প্রায় ৩০টি মামলার আসামি। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তাঁকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার সময় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ইতোমধ্যে আট দিন পার হয়েছে। তবে এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাটি সামনে আসার পর দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা এখন পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, অপেক্ষমাণ প্রাইভেট কারটির সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত এবং অর্থ লেনদেনের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রিজন ভ্যান থেকে একজন আসামিকে বের করে আনার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সংগৃহীত আলামত আরও যাচাই করা হচ্ছে।









