,

পাকিস্তান ক্রিকেটের সম্প্রচার স্বত্বে বড় দরপতন

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার প্রভাব এবার মাঠের বাইরেও পড়েছে। ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করতে গিয়ে প্রত্যাশিত অর্থ পায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ৬০ কোটি পাকিস্তানি রুপি রিজার্ভ মূল্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কোটি রুপিতে স্বত্ব বিক্রি করেছে বোর্ড।

রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি এই স্বত্ব পেয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও এক্সপ্রেস উর্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের দরপত্রে পিটিভিই একমাত্র আগ্রহী প্রতিষ্ঠান ছিল। ফলে প্রতিযোগিতামূলক দর না থাকায় পিসিবিকে নির্ধারিত রিজার্ভ মূল্যের চেয়ে ২৫ কোটি রুপি কমে চুক্তি করতে হয়েছে।

চুক্তির আওতায় রয়েছে মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মধ্যে পাঁচটি টেস্ট, ১৪টি ওয়ানডে এবং ছয়টি টি-টোয়েন্টি। অর্থাৎ তিন সংস্করণের ম্যাচই রয়েছে এই সম্প্রচার প্যাকেজে। এতগুলো ম্যাচের স্বত্ব একসঙ্গে বিক্রি হলেও প্রত্যাশিত মূল্যের তুলনায় কম অর্থ পাওয়ায় পিসিবির বাণিজ্যিক আয় নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

স্বত্বের মূল্য কমে যাওয়ার পেছনে পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে সর্বশেষ ১৫ ম্যাচে পাকিস্তান জিতেছে মাত্র পাঁচটিতে। ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে জাতীয় দলের ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়ারল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচগুলো নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ তুলনামূলক সীমিত ছিল। ফলে এসব ম্যাচ সম্প্রচার করে বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করা যাবে কি না, তা নিয়ে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

একটি দলের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য নির্ধারণে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দর্শক আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয় খেলোয়াড়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ এবং বড় দর্শকসংখ্যার সম্ভাবনা থাকলে সম্প্রচারকারীরা বেশি অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হন। বিপরীতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা কিংবা কম আকর্ষণীয় প্রতিপক্ষ থাকলে ম্যাচের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

পিসিবির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অনিশ্চয়তায়। বোর্ডের কাছে তিনটি সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের অর্থ বকেয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়নি। অতীতে পাকিস্তান ক্রিকেটের সম্প্রচার স্বত্বের বড় অংশ পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানও এবার আগ্রহ দেখায়নি।

সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য কমে যাওয়ার ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটে অবশ্য নতুন নয়। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সম্প্রচার স্বত্বের জন্য পিসিবি ৩২০ কোটি পাকিস্তানি রুপি রিজার্ভ মূল্য নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বত্ব বিক্রি হয় ১৭২ কোটি রুপিতে। অর্থাৎ তখনও বোর্ডকে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম অর্থে স্বত্ব বিক্রি করতে হয়েছিল।

এবারের চিত্রও পিসিবির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। ৬০ কোটি রুপির রিজার্ভ মূল্যের বিপরীতে ৩৫ কোটি রুপিতে স্বত্ব বিক্রি হওয়ায় বোর্ডকে ২৫ কোটি রুপি কম নিতে হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এই ঘাটতি প্রায় ৪২ শতাংশ।

ঘটনাটি পাকিস্তান ক্রিকেটের বাণিজ্যিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত একটি দলের জনপ্রিয়তা, দর্শকসংখ্যা এবং ম্যাচের সম্ভাব্য বাজারমূল্যের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই মাঠের ফলাফল খারাপ হলে তার প্রভাব শুধু র‌্যাঙ্কিং বা দলের ভাবমূর্তিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

পিসিবির জন্য সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর বাণিজ্যিক আকর্ষণ বাড়ানো। ধারাবাহিক সাফল্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটে পাকিস্তান আবার দর্শকদের নজর কাড়তে পারলে ভবিষ্যতের সম্প্রচার স্বত্বের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।