দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বীমা দাবি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠনে উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় দফায় ৭ হাজার ৬৪১ জন পলিসিধারীর ২৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩০ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করা হচ্ছে।
আইডিআরএ জানিয়েছে, এবারের দাবি পরিশোধ সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর নিজ নিজ কার্যালয় থেকে করা হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে। গ্রাহকের বৈধ দাবি যথাযথভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৪ অক্টোবর) আইডিআরএ এ তথ্য জানায়। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে সরাসরি পলিসিধারীদের বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পাওনা আদায়ে গ্রাহকদের পাশে থাকার পাশাপাশি বীমা খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাতটি জীবন বীমা কোম্পানির ২ হাজার ৫৪৯ জন পলিসিধারীর ১৪ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার ১৪৬ টাকা ৫৮ পয়সার দাবি পরিশোধ করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়।
তৃতীয় দফায় ৭ হাজার ৬৪১ জন গ্রাহকের ২৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধের ফলে তিন দফায় মোট ১৬ হাজার ৫৮ জন পলিসিধারীকে ৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৭ টাকার বীমা দাবি পরিশোধের আওতায় আনা হয়েছে।
আইডিআরএ বলছে, বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে দাবি আটকে থাকায় অনেক পলিসিধারীকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। ফলে প্রাপ্য অর্থ সময়মতো বুঝিয়ে দেওয়া হলে একদিকে যেমন গ্রাহকের আর্থিক দায় মেটানো সহজ হবে, অন্যদিকে বীমা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বাড়তে পারে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিনের নেতৃত্বে পলিসিধারীদের ন্যায্য দাবি পরিশোধ, বীমা খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ, সিকিউরিটি বন্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের সংস্থান করে দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বৈধ দাবিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবার কোম্পানিগুলোর নিজস্ব কার্যালয় থেকে অর্থ পরিশোধ করা হলেও আইডিআরএর তদারকি অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি জোরদার করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করে প্রতিশ্রুত সুবিধা যথাসময়ে পাওয়ার ওপর। তাই দীর্ঘদিনের বৈধ দাবি নিষ্পত্তির এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে পলিসিধারীদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।









