খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শিশুটির মা স্থানীয় বাজারে যাওয়ার সুযোগে প্রতিবেশী ওই যুবক বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শনিবার এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম শামছুল আলম। তিনি মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খলিলুর রহমানের ছেলে। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে বাড়িতে রেখে তার মা স্থানীয় বাজারে যান। ওই সময় বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী শামছুল আলম সেখানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে না এলেও পরে বিষয়টি জানাজানি হয়। শনিবার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শিশুটির নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ওঠে।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর ওইদিন রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।
পরে অভিযুক্ত শামছুল আলমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে গিয়ে পুলিশ ঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের বিস্তারিত ঘটনা যাচাই করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিশু ধর্ষণের মতো অভিযোগে দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুটির পরিচয় যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।









