রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৫০টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে পুলিশের একাধিক বিভাগ অংশ নেয়। গ্রেপ্তারের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মিরপুর বিভাগ। এ বিভাগ থেকে ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর মতিঝিল বিভাগে ৬১ জন এবং তেজগাঁও বিভাগে ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৪৫ জন, লালবাগ বিভাগে ৪২ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রমনা বিভাগ থেকে ৩০ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে।
অভিযানের সময় পুলিশ একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া সাতটি চাপাতি, চারটি রামদা এবং একটি প্লাস জব্দ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত কোন কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, বিজ্ঞপ্তিতে তা পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা ও ৩৫ গ্রাম গাঁজা। পাশাপাশি পাঁচ ক্যান বিয়ারও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের অভিযানে তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। একইভাবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে কোন আসামির কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়েও পৃথক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট মামলার আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের কারণ এবং উদ্ধার করা আলামত নিয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে ডিএমপি। তবে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।









